ভুটানের বৃষ্টিতে কালচিনি-মাদারিহাটে হড়পা বান, নেপালের ট্র্যাজেডির আতঙ্কে ৩ দুর্গম গ্রাম

ভুটানের বৃষ্টিতে কালচিনি-মাদারিহাটে হড়পা বান, নেপালের ট্র্যাজেডির আতঙ্কে ৩ দুর্গম গ্রাম

প্রতিবেশী দেশ ভুটানে টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির জেরে আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাটের বাঙরি নদীতে হঠাৎ নেমে এল হড়পা বান। রবিবার দুপুরে মাদারিহাটের জমতলার কাছে হড়পা বানের জল চলে আসায় স্থানীয় নিত্যযাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের স্মৃতি উসকে ওঠায় আর কেউ নদী পার হওয়ার ঝুঁকি নেননি। দীর্ঘক্ষণ নিরাপদ দূরত্বে অপেক্ষা করার পর বিকেলে নদীর জল কমলে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি এবং যাত্রীরা গন্তব্যে রওনা দেন।

নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনার পর ‘হড়পা বান’ শব্দটাই এখন সাধারণ মানুষের মনে ভীতি তৈরি করছে। তবে উত্তরবঙ্গের এই দুর্গম অঞ্চলে এটি নতুন কিছু নয়। মাদারিহাট থেকে টোটোপাড়ায় যাওয়ার ২৭ কিলোমিটারের পথটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। হান্টাপাড়া, মুজনাই এবং টোটোপাড়ার বাসিন্দাদের নিত্যদিন তিতি, বাঙরি ও হাউড়ির মতো পাহাড়ি নদী এবং অন্তত ১৭টি পাহাড়ি ঝোরা পার হয়ে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষার দিনে ভুটানের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল কখন নদীর রূপ বদলে দেবে, তা আগে থেকে অনুমান করা আসাম্ভব। পাহাড়ি এই পথের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই হঠাৎ বানে আটকে পড়ে যানবাহন। নেপালের ভোটেকোশি নদীর তাণ্ডবের পর এখন একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে— পাহাড়ি নদীর এই রুদ্ররূপ কি তবে মুছে দেবে টোটোপাড়া, হান্টাপাড়া ও মুজনাইয়ের মতো সীমান্ত জনপদগুলোর অস্তিত্ব?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *