ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল কার দখলে? ট্রাম্পের ঘোষণায় তোলপাড় বিশ্ব!

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারির পর দেশটির তেলের বাজারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে গেল আমেরিকার হাতে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে হওয়া এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ওয়াশিংটন। এই বিশাল পরিমাণ তেলের ভাণ্ডার ভারতের মতো দেশের প্রায় ৪০ বছরের মোট তেল আমদানির সমতুল্য। চুক্তি অনুযায়ী, সেখানে কর্মরত এক বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় উৎপাদিত তেলের বড় একটি অংশ সরাসরি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে যাবে। একে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজও এই সমঝোতাকে সাধুবাদ জানিয়ে জানিয়েছেন, এর ফলে দেশের ১৭টি খনি পুনরুজ্জীবিত হবে এবং বড় অংকের বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে।
বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকছিল ভেনেজুয়েলা। বর্তমানে আমেরিকা যে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার কথা বলছে, তা দেশটির মোট মজুদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। চুক্তি অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনে গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় বা কোন মার্কিন সংস্থার মাধ্যমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হবে এবং তেল বিক্রির লভ্যাংশ কীভাবে ভাগ হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।