মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা

আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের জেরে ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। লারক দ্বীপে মার্কিন আক্রমণের জবাবে জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জর্ডানের ‘কিং হুসেন’ ও ‘আল-আজরাক’ ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ঘাঁটিগুলির প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ও যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার। যদিও সংবাদমাধ্যম ‘আল আরাবিয়া’ সূত্রে খবর, জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোঁড়া মিসাইলগুলি মাঝপথেই ধ্বংস করে দিয়েছে।

এই হামলার মূল প্রেক্ষাপট তৈরি হয় লারক দ্বীপে আমেরিকার দুটি পর্যায়ের আক্রমণের পর, যেখানে বেশ কয়েকজনের হতাহতের খবর মেলে। ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে IRGC-র মুখপাত্র হুসেন মোহেব্বি মার্কিন পদক্ষেপকে এক “গুরুতর ও কৌশলগত ভুল” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব আমেরিকা সামরিক ও অর্থনৈতিক—দুইভাবেই পাবে।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে যে আরব সাগরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামুদ্রিক অবরোধ চালু রয়েছে। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তারা ৮৩টি বাণিজ্যিক জাহাজের পথ ঘুরিয়ে দিয়েছে, ৩টি জাহাজকে নিষ্ক্রিয় করেছে এবং ২টি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বিশ্বজুড়ে ইরানের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে “অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট”-এর ঘোষণা করেছিলেন। নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরেই উভয় দেশের মধ্যে এই সামরিক উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *