মহাপ্রলয়ের আগে ‘ঘেমে’ উঠেছিলেন দেবী! নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয় কি ছিল অলৌকিক ইঙ্গিত?

ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা ৯০০ পেরিয়েছে, নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষ। তবে এই প্রলয়ঙ্করি দুর্যোগের মাঝে কাভরেপালানচোক জেলার বিখ্যাত পালানচক ভগবতী মন্দিরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম চাঞ্চল্য। স্থানীয়দের দাবি,災難 নেমে আসার ঠিক চার দিন আগে দেবীর প্রতিমা নাকি ঘেমে উঠেছিল!
ঘটনাটি ঘটে ২২ আগস্ট সন্ধ্যার প্রার্থনার সময়। মন্দিরের পুরোহিত প্রথম লক্ষ্য করেন দেবীর মুখ ও কপালে বিন্দু বিন্দু জল ফুটে উঠেছে, যা দেখতে হুবহু ঘামের মতো। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বড় কোনো বিপদ বা অঘটন ঘটার আগে এই প্রতিমা জলবিন্দু জমিয়ে মানুষকে সতর্ক করে। তাই ঘটনাটি জানাজানি হতেই বিপদ এড়াতে মন্দিরে বিশেষ ক্ষমা প্রার্থনার আচারও পালন করা হয়। কিন্তু তার চার দিন পরই, ২৬ আগস্ট, দেশে নেমে আসে ভয়াবহ বন্যা।
স্থানীয় প্রবীণদের দাবি, ১৯৭৪ ও ১৯৮৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং ২০০১ সালে রাজপরিবারের হত্যাকাণ্ডের আগেও প্রতিমায় এমন লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। প্রাচীনকালে নাকি এমন ঘটনা ঘটলে স্বয়ং রাজাকেও বিশেষ পুজো দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতো।
তবে অলৌকিক এই দাবির পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। গবেষকদের মতে, বর্ষাকালে বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মন্দিরের ঠান্ডা পাথরের প্রতিমার গায়ে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জমা হয়, যা দেখতে ঘামের মতো লাগে।
বিশ্বাস ও বৈজ্ঞানিক যুক্তির এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নেপালে উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশে ৯০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৪,২৪৭ জন এখনও নিখোঁজ। পাশাপশি সংলগ্ন তিব্বতেও ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৩ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর মিলছে।