স্কুলের জন্য বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা, তবুও শিক্ষক নেই; সিএজি রিপোর্টে বাংলার শিক্ষার ভয়াবহ ছবি
September 4, 20265:34 am

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক অবস্থা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত রাজ্য, জেলা ও স্কুলস্তরে পরীক্ষা চালিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ সামনে এনেছে সংস্থাটি। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে মূল সমস্যা কেবল অর্থের অভাব নয়, বরং বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার না হওয়া এবং নজরদারির চরম গাফিলতি।
রিপোর্টের মূল বিষয়বস্তুসমূহ:
- অব্যবহৃত বিপুল অর্থ: ‘সমগ্র শিক্ষা’ প্রকল্পে ২০১৯-২৪ মেয়াদে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রাপ্ত বরাদ্দের মাত্র ৪৬ থেকে ৬৫ শতাংশ টাকা খরচ করা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ব্যবহারের শংসাপত্র না দেওয়ায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বরাদ্দ মিলিয়ে মোট ২,৪২৭.৮৭ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়।
- নিয়মবহির্ভূত খরচ ও হিসাবহীন টাকা: ‘সমগ্র শিক্ষা’ প্রকল্পের টাকা দিয়ে ট্যাব বিতরণ, প্রচার ও বিজ্ঞাপনে ৬.১৩ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে, যা অডিট অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের শেষে রাজ্য ও জেলা স্তর মিলিয়ে মোট ৬৮২ কোটি টাকার আর্থিক বৈষম্য ও অগ্রিমের হিসাব না পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
- শিক্ষক বণ্টনে চরম বৈষম্য: রাজ্যে ২৯ শতাংশ প্রাথমিক স্কুলে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত অত্যন্ত খারাপ (প্রয়োজনীয় শিক্ষকের ঘাটতি ৩১,৬৮৪ জন)। অন্যদিকে ২১,৬৭৯টি স্কুলে প্রয়োজনের চেয়ে ৩২,৮৪০ জন অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন। প্রায় ৫২০টি প্রাথমিক স্কুলে কোনো শিক্ষকই ছিলেন না এবং ৫,১৫২টি স্কুলে মাত্র ১ জন করে শিক্ষক রয়েছেন।
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বঞ্চনা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের যাতায়াত ভাতা ও এসকর্ট ভাতা প্রদান করা হয়নি। প্রায় ৭২% সরকারি স্কুলে এদের উপযোগী শৌচাগার নেই এবং রাজ্যে ৩৩,৮৩৫ জন বিশেষ শিক্ষকের শূন্যপদ রয়েছে।
- পড়াশোনার নিম্নমান ও ড্রপআউট: সপ্তম থেকে নবম শ্রেণিতে ওঠার পথে প্রায় ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী কমেছে। পরীক্ষায় ফেলের হার উদ্বেগজনক; বিশেষ করে গণিত বিষয়ে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বহু শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন নম্বর পেয়েছে।
- প্রশাসনিক গাফিলতি: পুরো অডিট চলাকালীন প্রকল্প পরিচালনা পরিষদের কোনো বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয়নি। অধিকাংশ স্কুলে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সিএজি-র সুপারিশ: প্রকল্প নতুন করে না বানিয়ে বিদ্যমান অর্থের সময়োপযোগী ব্যবহার, প্রয়োজনাভিভুক শিক্ষক নিয়োগ ও সঠিক বণ্টন, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নিয়মিত জেলা ও স্কুল স্তরে নজরদারি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।