প্যান্ডেলের বাঁশেই কি লুকিয়ে বড় বিপদ? দুর্গাপুজোর আগেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের চরম হুঁশিয়ারি!

উৎসবের মরশুমে ডেঙ্গুর মারাত্মক বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২৪২ ছাড়িয়েছে, যা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মহলে। বিশেষ করে পুজোর মণ্ডপ তৈরিতে ব্যবহৃত বাঁশের কাটা মাথায় জমা জল ডেঙ্গু বাহক এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পতঙ্গ বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী সপ্তাহেই জেলার সমস্ত পুজো কমিটিগুলোকে নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসবেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অসীম হালদার। মণ্ডপের বাঁশের মুখ প্লাস্টিক বা বালি দিয়ে ঢেকে রাখা এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে খবর, জুন থেকে অক্টোবর মাস মশাবাহীত রোগের প্রধান মরশুম হলেও চলতি বছরের মে মাস থেকেই জেলায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে এডিস মশা। ২০২২ সালে জলপাইগুড়িতে ডেঙ্গু ভয়ানক রূপ নিয়েছিল; আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩,৯৫৬ জন এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন চারজন। পরবর্তী বছরগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও, এবার পরিস্থিতি যাতে হাতছাড়া না হয় তার জন্য বছরজুড়েই চলছে জোরদার সচেতনতা অভিযান। স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন এবং জ্বর হলেই দ্রুত রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করছেন। স্বাস্থ্য দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, উৎসবের আনন্দ যেন মশার কামড়ে মাটি না হয়ে যায়, সেজন্য সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।