বদল হচ্ছে চেনা বিশ্ব মানচিত্র! আমেরিকার আপত্তি উড়িয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাশ ঐতিহাসিক প্রস্তাব

প্রায় পাঁচ শতক ধরে ব্যবহৃত প্রচলিত বিশ্ব মানচিত্র বদলে ফেলার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল রাষ্ট্রসংঘ। শনিবার সাধারণ পরিষদে বিপুল ভোটে পাশ হয়েছে ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামক নতুন মানচিত্র ব্যবহারের প্রস্তাব। ১৬৫টি দেশের অংশগ্রহণে হওয়া এই ভোটাভুটিতে একমাত্র আমেরিকা বাদে বাকি সবাই সপক্ষে রায় দেয়। ১৫৬৯ সালে জেরার্ডাস মার্কেটরের তৈরি প্রথাগত মানচিত্রে গোলাকার পৃথিবীকে সমতল করতে গিয়ে মহাদেশগুলির আয়তনের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে চৌদ্দ গুণ বড় হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকাকে এতদিন গ্রিনল্যান্ডের প্রায় সমান দেখানো হতো। নতুন এই মানচিত্রে মহাদেশগুলির সঠিক ও তুলনামূলক আয়তন তুলে ধরা হয়েছে, যা ভৌগোলিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে।
আফ্রিকার দেশ টোগোর পেশ করা এই প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী আমেরিকা জানিয়েছে, ষোড়শ শতকের মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক না বাড়িয়ে বর্তমান বৈশ্বিক সমস্যার দিকে নজর দেওয়া উচিত ছিল। ওয়াশিংটনের মতে, এই পদক্ষেপের নেপথ্যে আদর্শগত এজেন্ডা রয়েছে। তবে আফ্রিকার বিদেশমন্ত্রী রবার্ট ডুসি এই বদলকে সমর্থন করে জানান যে, পুরনো মানচিত্র ভুল ধারণার জন্ম দিচ্ছিল। উল্লেখ্য, প্রস্তাবটি পাস হলেও নতুন ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে বিশ্বমঞ্চে এই সিদ্ধান্তের ফলে ভৌগোলিক উপস্থাপনা ও শিক্ষায় এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।