সিকিমে পাহাড়ে ধসে থমকাল তিস্তার গতি, উত্তরবঙ্গে জারি উচ্ছেদ ও মাইকিং!

সিকিমে পাহাড়ে ধসে থমকাল তিস্তার গতি, উত্তরবঙ্গে জারি উচ্ছেদ ও মাইকিং!

সিকিমে পাহাড়ে ভয়াবহ ধসের জেরে থমকে গেল তিস্তার গতিপথ, ফলে চরম উদ্বেগে উত্তরবঙ্গ। নেপালে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের রেশ কাটার আগেই ফের সিকিমে নেমে এলো বড়সড় প্রাকৃতিক বিপদ, যার আঁচ এসে পৌঁছেছে কালিম্পং, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে।

শনিবার গভীর রাতে উত্তর সিকিমের মাঙ্গান জেলার নাকা ফরেস্ট এলাকার থেং টানেলের উল্টো দিকে চিয়াকুং নদীর উপরিভাগে বিশাল পাহাড় ধসে পড়ে। এর ফলে চিয়াকুং ও তিস্তা—দুই নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ আংশিক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং চুংথাং এলাকায় তিস্তার জলস্তর হু-হু করে বাড়তে শুরু করে।

এই ঘটনার খবর পেতেই রবিবার সকাল থেকে কালিম্পংয়ের তিস্তা বাজার, দার্জিলিংয়ের সেবক এবং জলপাইগুড়ির মালবাজার মহকুমার একাধিক গ্রামে মাইকে টানা প্রচার চালিয়ে নদীকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়। বাগরাকোট, ওদলাবাড়ি, রাজগঞ্জ ও ক্রান্তি ব্লকের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে দূরে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই টোটগাঁও গ্রামের মানুষকে নদী থেকে ২ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জলপাইগুড়ি সদর ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকেও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং আপৎকালীন পরিস্থিতিতে আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন স্কুলগুলোকে তৈরি রাখা হয়েছে।

সিকিমের মুখ্যসচিব রবীন্দ্র তেলাংয়ের সঙ্গে কথা বলে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত জানান, নদীর উপরিভাগে ধস নামায় সাময়িক বাধা তৈরি হলেও জল প্রবাহ একেবারে থেমে যায়নি। আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হলেও সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে হিমবাহ-পুষ্ট এই নদীর অববাহিকায় কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা একদম উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সাউথ লোনাক হ্রদ ফেটে সিকিম ও উত্তরবঙ্গে যে ভয়াবহ হড়পা বান ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, সিকিমের এই সাম্প্রতিক ধস ফের সেই ভয়াল স্মৃতি ও আতঙ্ককে উসকে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *