‘স্পেশাল ২৬’ কায়দায় কোটি টাকার জালিয়াতি: ৩০ বছরে ৫ নাম বদলে অবশেষে পুলিশের জালে ‘স্যাম’!

সিনেমার চিত্রনাট্যকেও যেন হার মানায় তাঁর বাস্তব জীবন। ‘স্পেশাল ২৬’-এর কায়দায় দীর্ঘ তিন দশক ধরে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ প্রতারক স্যাম অ্যান্টোনি ওরফে স্যাম পিটারকে (৬৪) গ্রেপ্তার করল ম্যাঙ্গালুরু সিটি পুলিশ। ১ সেপ্টেম্বর কেরলের কণ্ণুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৯৯৭ সাল থেকে অপরাধ জগতে পা রাখা এই ব্যক্তি ছত্তিশগড়, কর্ণাটক, বিহার, চেন্নাইসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতারণার জাল বুনেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশও জারি হয়েছিল। নিজেকে বাঁচাল রাখতে গত ৩০ বছরে অন্তত পাঁচটি ভিন্ন নাম (স্যাম পিটার, রাহুল পিটার, ড্যানি থারাক্কান, রাজেশ রবিনসন ইত্যাদি) ব্যবহার করেছেন তিনি। কখনও ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA), কখনও রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (RAW), আবার কখনও এনসিআইবি (NCIB)-র শীর্ষ আধিকারিক সেজে ধনী ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য বানাতেন। আইনি ঝামেলা মেটানোর নাম করে কিংবা কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিতেন কোটি কোটি টাকা। ২০১৮ সালে আব্দুল শরিফ নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এমবিএ পাশ করা এই প্রতারক ইংরেজিতে অত্যন্ত দক্ষ এবং তাঁর পোশাক-আশাক ও চলনবলন ছিল নিখুঁত। ফলে প্রথম দেখাতেই যে কেউ তাঁকে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভেবে ভুল করতেন। গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে একাধিক জাল পরিচয়পত্র এবং ভুয়ো পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
২০১৯ সালের একটি মামলায় ২০২৩ সালে জামিন পাওয়ার পর থেকেই পলাতক ছিলেন এই অপরাধী। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সম্প্রতি কেরলের একটি মিডিয়া ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার দুঃসাহস দেখান স্যাম। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ তাঁর অবস্থান ট্র্যাক করে এবং অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।