ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড বিতর্ক: হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টেও বড় ধাক্কা তৃণমূলের

ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড বিতর্ক: হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টেও বড় ধাক্কা তৃণমূলের

কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে দলীয় বিলবোর্ড খোলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি পেল না তৃণমূল কংগ্রেস। ৯ ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় যে বহুতলে অবস্থিত, তার ওপর থেকে একটি বিলবোর্ড সরিয়ে দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। হাইকোর্টের পর এবার সেই বিলবোর্ড সংক্রান্ত মামলায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল শীর্ষ আদালতও।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের ভূমিকা তৃণমূলের অভিযোগ, কোনো আগাম নোটিশ বা শুনানির সুযোগ না দিয়েই তাড়াহুড়ো করে পুরসভা ও পুলিশ বিলবোর্ডটি খুলে ফেলে। এ নিয়ে ঘটনাস্থলে আধিকারিকদের সঙ্গে সমর্থকদের বচসাও হয়। পরে তৃণমূল কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। আবেদনে দাবি জানানো হয়েছিল— বিলবোর্ডটি আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং অপসারণের সময় উপস্থিত পুর ও পুলিশ আধিকারিকদের পরিচয় প্রকাশ করা হোক। তবে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করে জানান, বিলবোর্ডটি ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে; এখন তা ফের বসানোর নির্দেশ দিলে মামলার চূড়ান্ত রায়ের সমান হয়ে যাবে।

সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল-জবাব হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয় তৃণমূল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিব্বল দাবি করেন, কার্যালয় সংলগ্ন বহুতলে দলীয় বিলবোর্ড লাগানোর আইনি অধিকার তাঁদের রয়েছে এবং নোটিশ ছাড়া তা সরানো বেআইনি। জবাবে রাজ্যের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, আবেদনকারীদের এই বক্তব্য কলকাতা হাইকোর্টেই তুলে ধরা উচিত।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মামলাটি যেহেতু হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে, তাই শীর্ষ আদালত এতে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে মামলাটি যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়, হাইকোর্টকে সেই পরামর্শ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *