আইনের ফাঁকে মৃত্যুফাঁদ! দিল্লিতে পিজি ধসে ৭ জনের মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি পাঁচতলা বয়েজ পেয়িং গেস্ট (পিজি) ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭। রাতভর চলা উদ্ধার অভিযানে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পিজির মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের (Magisterial Inquiry) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি কেবল পরিকাঠামোগত ব্যর্থতা নয়, বরং প্রশাসনের চরম গাফিলতি এবং অগ্নি-সুরক্ষা আইনের বড়সড় ফাঁকফোকরকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
আইনি নজরদারির অভাব ও অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিকীকরণ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (DU) সাউথ ক্যাম্পাস থেকে সত্য নিকেতনের দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার। পড়ুয়াদের বিপুল আবাসন চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে গত দুই দশকে সেখানকার আবাসিক বাড়িগুলিকে অবলীলায় বাণিজ্যিক পিজি ও প্রাইভেট হস্টেলে পরিণত করা হয়েছে। দিল্লির বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী পিজি চালানোর জন্য আলাদা কোনো বিশেষ লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না। ফলে সরকারি নজরদারি ছাড়াই সাধারণ আবাসিক বাড়িগুলিকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে মৃত্যুফাঁদ বানিয়ে ফেলছেন বাড়িওয়ালারা।
অগ্নি-সুরক্ষা আইনের ফাঁক দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (DFS Rules 2010) অনুযায়ী, ভবন ১৫ মিটারের চেয়ে উঁচু হলে অথবা ‘গ্রাউন্ড প্লাস ৪ তলা’ বিশিষ্ট হলে ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট বা এনওসি (NOC) নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ১৫ মিটারের কম উচ্চতার আবাসিক কাঠামোর জন্য কোনো ফায়ার এনওসি লাগে না। এই আইনি সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু মালিকেরা কম উচ্চতার বহুতল বানিয়ে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা তৈরি করছে, যার ফলে বড় ধরনের সুরক্ষাহীনতা তৈরি হচ্ছে।
ধসের মূল কারণ ধসে পড়া ভবনটি ছিল প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে জমা জল ভবনের পুরোনো ভিতকে মারাত্মক দুর্বল করে দিয়েছিল। তার ওপর বেসমেন্টে ঝুঁকিপূর্ণ খোড়াখুঁড়ি ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলায় পাঁচতলা ভবনটি মুহূর্তে ভেঙে পড়ে।
এই দুর্ঘটনার পর দিল্লির হাজার হাজার অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনি পিজি-তে থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।