স্ত্রীকে কুপিয়ে ফ্রিজে রাখল স্বামী! ধৃতের হুঙ্কার— ‘কোনো অনুতাপ নেই, বেরোলে আর একটা খুন করব’
গুয়াহাটি:
স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে কাটা মাথা ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল আগেই। এবার ধৃত স্বামীর মুখে শোনা গেল আরও ভয়ংকর হুঙ্কার! স্ত্রীকে খুনের জন্য কোনো অনুশোচনা তো নেই-ই, বরং আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে অভিযুক্ত স্বাচ্ছন্দে জানালেন, “জেল থেকে বেরোতে পারলে স্ত্রীর ‘সুগার ড্যাডি’কেও খুন করব!” আসামের গুয়াহাটির এই ঘটনায় শিউরে উঠছেন পুলিশকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও।
ফ্রিজ খুলতেই বেরিয়ে এলো কাটা মাথা
ঘটনাটি ঘটেছে গুয়াহাটির হাটিগাঁও এলাকায়। নিহত তরুণীর নাম রিয়া তালুকদার (২৫)। গত ৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দারা ফ্ল্যাট থেকে তীব্র পচাগলানি দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেন। বেশ কিছুদিন ধরেই রিয়া ও তাঁর স্বামী রামানুজ গোস্বামীর মোবাইল বন্ধ ছিল। পুলিশ এসে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রিয়ার ক্ষতবিক্ষত মুণ্ডহীন ধড় উদ্ধার করে।
এরপর ফ্রিজ খুলতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় তদন্তকারীদের। পলিথিনে মুড়ে ফ্রিজের ভেতরে রেখে দেওয়া হয়েছিল রিয়ার কাটা মাথা! শুধু তা-ই নয়, নিহতের হাত-পায়ের কয়েকটি আঙুলও কুচিয়ে কাটা হয়েছিল।
‘অনুতাপ নেই, ক্ষমাও চাইব না’
পেশায় ক্যাবচালক অভিযুক্ত স্বামী রামানুজ গোস্বামী হত্যাকাণ্ডের পর দু’দিন ফেরার থাকার পর নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। সেখানে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা না দেখিয়ে তিনি বলেন, “আমিই স্ত্রীকে খুন করেছি। জেল থেকে বেরোতে পারলে ওর ওই সুগার ড্যাডিকেও খুন করব।” অনুশোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তাঁর জবাব, “কোনো অনুতাপ নেই, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
পরকীয়া সন্দেহ নাকি অন্য কারণ?
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রী রিয়ার অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে—এই তীব্র সন্দেহ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে রামানুজ। রিয়া গুয়াহাটির ফ্যান্সি বাজারের একটি বুটিকে কাজ করতেন। তাঁর সহকর্মীরা জানান, ফোনে প্রায়ই দম্পতির মধ্যে তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচি ও অশান্তি হতো। তবে রিয়ার পরিবার পরকীয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। নিহতের ভাই অভিযুক্ত রামানুজের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তে পুলিশ
অভিযুক্ত রামানুজের দাবি করা ওই ‘সুগার ড্যাডি’ আসলে কে? নাকি কেবল সন্দেহের বশে এই ভয়ংকর অপরাধ ঘটানো হয়েছে? তা খতিয়ে দেখছে হাটিগাঁও থানার পুলিশ। খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট জানতে রামানুজকে হেফাজতে নিয়ে জেরার প্রস্তুতি চলছে।