শান্তিনিকেতনের জমি জবরদখল: ‘জনতার দরবারে’ বাউল সম্রাট, বীরভূমের DM-কে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

শান্তিনিকেতনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া জমি থেকে শুরু করে ইলামবাজারের নিজস্ব সম্পত্তি—সবই রাজনৈতিক মদতে জবরদখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে হাজির হলেন পদ্মশ্রীপ্রাপক ‘বাউল সম্রাট’ পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল। বুধবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তাঁরা। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তৎক্ষণাৎ বীরভূমের জেলাশাসককে (DM) ফোন করে হাতছাড়া হওয়া জমি দ্রুত উদ্ধার করে বাউল সম্রাটের পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জমি দখলের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব বাউল পরিবারের অভিযোগ, শান্তিনিকেতনে আখড়া গড়ার জন্য পূর্ণদাস বাউলের বাবা লক্ষ্মণ দাস বাউলকে জমি দিয়েছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই ঐতিহাসিক ভূখণ্ডের পাশাপাশি ১৯৭৭ সালে ইলামবাজারের কামারপাড়ায় কেনা ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৪ বিঘা জমি ২০০৬ সালে বলপূর্বক জবরদখল করে পার্ট নম্বর বদলে দেওয়া হয়। এই জমি দখলের পেছনে প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল ও প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার ঘনিষ্ঠ সুকুল টুডু জড়িত বলে দাবি পরিবারের।
মুখ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ বাউল সম্রাটের অভিযোগ শোনামাত্রই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কালবিলম্ব না করে বীরভূমের জেলাশাসককে ফোন করেন এবং জমি পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দিব্যেন্দু দাস বাউল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “আপনাদের এখানে কষ্ট করে আসার কোনো প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টি আমার জানা, একটা ফোন করলেই আমি নিজে জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিতাম।”
উল্লেখ্য, এর আগে পূর্বতন সরকারের সময়ে নবান্নে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ বাউল পরিবারের। দীর্ঘ উপেক্ষার পর নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ থেকে এই তাৎক্ষণিক নির্দেশে হাতছাড়া হওয়া ঐতিহ্য ও সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন পূর্ণদাস বাউল ও রাজ্যের সাংস্কৃতিক মহল।