অবরুদ্ধ খেচিপেরি সড়ক, ফুঁসছে তিস্তা: সিকিমে ফের দুর্যোগের ছায়া

অবরুদ্ধ খেচিপেরি সড়ক, ফুঁসছে তিস্তা: সিকিমে ফের দুর্যোগের ছায়া

প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না সিকিমের। উত্তর সিকিমের চাকুং নদীতে পাহাড় ভেঙে তিস্তার গতিপথ আংশিক অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ধস নামল পশ্চিম সিকিমে। সোমবার রাতে পশ্চিম সিকিমের খেচিপেরি অঞ্চলে প্রবল কাদাধসের কারণে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রম্ভি-খেচিপেরি সড়ক। সড়কের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। স্থানীয় পবিত্র তীর্থক্ষেত্র ও প্রাকৃতিক হ্রদ খেচিপেরিতে প্রতিদিন বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটক যান, ফলে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বর্তমানে সিকিম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর দ্রুত রাস্তা মেরামতের কাজ চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, উত্তর সিকিমের ওসিবীর এলাকায় চাকুং নদীর ধসের জেরে তিস্তা ও চাকুং নদীর সংযোগস্থলে একটি ছোট কৃত্রিম লেক তৈরি হতে দেখা গিয়েছে। চোলামু হ্রদ থেকে আসা বরফগলা জলের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহের কারণে ওই লেকের জলধারণ ক্ষমতা পেরিয়ে গেলে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন ভূতত্ত্ববিদরা। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উত্তর সিকিম থেকে পশ্চিমবঙ্গের কালীঝোরা পর্যন্ত তিস্তার উপর থাকা সাতটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যারাজ থেকে জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সিকিমের টানা বৃষ্টিপাত। গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম সিকিমের গেজিংয়ে ৩১ মিমি এবং ইয়োকসামে ৬৯ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এই পাহাড়ি ঢালের জল রঙ্গিত নদী হয়ে সরাসরি তিস্তায় এসে পড়ায় জলস্ফীতির আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই দক্ষিণ সিকিমে ‘হলুদ সংকেত’ জারি করেছে। আবহবিদ থেকে শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ও ভূতত্ত্ববিদ— সকলের নজরই এখন তিস্তার পরিস্থিতির ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *