ফরাক্কার ১০৯ গেটই খোলা: বিপদসীমার দেড় মিটার উপরে গঙ্গা, তটবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক

মুর্শিদাবাদে গঙ্গা নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ফরাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি লকগেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। নদী বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্লাবন ও নদীভাঙনের তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন (CWC) সূত্রে জানা গেছে, ফরাক্কায় ডাউনস্ট্রিমে গঙ্গার জলস্তর বর্তমানে পৌঁছৈছে ২৩.৭৫ মিটারে, যা ২২.২৫ মিটারের বিপদসীমা থেকে প্রায় ১.৫ মিটার উপরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারেজের আপস্ট্রিম থেকে আসা প্রায় ১৬ লক্ষ কিউসেক জল ডাউনস্ট্রিমে এবং ফিডার ক্যানেল দিয়ে আরও প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানান ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আর ডি দেশপান্ডে। তবে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের পূর্বাভাস, আগামী দু’দিনের মধ্যে জলস্তর কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
গঙ্গার এই লাগামহীন জলবৃদ্ধিতে ডাউনস্ট্রিমের বেনিয়াগ্রাম সহ বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার জোরালো আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, নদী তীরবর্তী পরিবারগুলো চরম আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন, যদিও এবার প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।
এদিকে জলস্ফীতির পাশাপাশি নদীভাঙন নতুন করে বিপদ বাড়িয়ে তুলেছে। বুধবার সকাল থেকে লালগোলা ও রঘুনাথগঞ্জ থানা সীমানার তারানগর ও রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে পুনরায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই বছর ধরেই এই অঞ্চলে নদীগ্রাসে গেছে বহু ভিটেমাটি ও ফসলি জমি। অন্যদিকে, ২০১৯ সালের ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ফরাক্কার সরকারি খাস জমিতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলি পড়েছে দ্বিমুখী বিপদে—একদিকে জল বাড়ার ফলে বসতি ডুবে যাওয়ার ভয়, অন্যদিকে সরকারি জায়গা ফাঁকা করার নোটিশ। সব মিলিয়ে গঙ্গার রুদ্ররূপে দিশেহারা মুর্শিদাবাদের নদীপাড়ের মানুষ।