বয়স বাড়লেই কি মিলবে শতভাগ পেনশন? অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে বাড়ছে জল্পনা!

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের (৮ম CPC) দৌলতে দেশের প্রায় এক কোটি সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীর জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পরামর্শ পর্বের মধ্য দিয়ে চলা এই কমিশনে বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের পক্ষ থেকে পেনশন কাঠামো সংশোধনের একাধিক জোরালো প্রস্তাব জমা পড়েছে।
প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের চেয়ারপার্সনে গঠিত এই কমিশনে সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার পঙ্কজ জৈন এবং সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন অর্থনীতির অধ্যাপক পুলক ঘোষ। নিয়মানুযায়ী, কমিশন গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে এর আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পেশ করার কথা। এই সিদ্ধান্তের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে দেশের প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগীর ওপর, যার মধ্যে রেল ও প্রতিরক্ষা বিভাগের অবসরপ্রাপ্তরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
পেনশন কাঠামো পুনর্গঠন ও বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে ন্যাশনাল কাউন্সিল (NC-JCM), মহারাষ্ট্র ওল্ড পেনশন অর্განიზেশন এবং অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের (AIDEF) মতো একাধিক সংগঠন কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রস্তাব পেশ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধি নিয়ে। প্রথম বিকল্প হিসেবে শেষ প্রাপ্ত বেতনের (LPD) অন্তত ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে অথবা চাকরির শেষ দশ মাসের গড় বেতনের ভিত্তিতে তা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি, প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বয়স-ভিত্তিক বৃদ্ধির প্রস্তাবও পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী—
- ৬৫ বছর বয়স: শেষ বেতনের ৭০ শতাংশ
- ৭০ বছর বয়স: ৭৫ শতাংশ
- ৭৫ বছর বয়স: ৮০ শতাংশ
- ৮০ বছর বয়স: ৮৫ শতাংশ
- ৮৫ বছর বয়স: ৯০ শতাংশ
- ৯০ বছর বা তার বেশি বয়স: একেবারে ১০০ শতাংশ অর্থাৎ সম্পূর্ণ বেতন পেনশন হিসেবে পাওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে এই প্রস্তাবগুলি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন্দ্রের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। এছাড়া, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগের অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন সংশোধন নিয়ে রিটায়ার্ড এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (REWA)-এর তরফ থেকেও দাবি জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশের কোটি কোটি মানুষ।