জমি দখল ও তোলাবাজি: কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে গ্রেফতার অমিত গঙ্গোপাধ্যায়

জমি দখল ও তোলাবাজি: কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে গ্রেফতার অমিত গঙ্গোপাধ্যায়

দক্ষিণ কলকাতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী অমিত গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। জাল নথি তৈরি, জমি দখল এবং ভয় দেখিয়ে তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে কলকাতার বাসভবন থেকেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

প্রতারণার কৌশল ও অভিযোগের বহর তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, অমিত ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের বিভিন্ন থানায় অন্তত ২০টিরও বেশি এফআইআর নথিবদ্ধ রয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে পরবর্তীতে ইডি এই ঘটনায় ইসিআইআর (ECIR) দায়ের করে।

তদন্তকারীদের মতে, চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করত। এলাকাভিত্তিক অসহায়, বয়স্ক ও দুর্বল জমি মালিকদের চিহ্নিত করাই ছিল এদের প্রথম কাজ। এরপর ভুয়ো সেল ডিড, জালিয়াতি করা ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ এবং সরকারি রেকর্ডে কারচুপি করে ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভনে ফেলে জমি হস্তগত করা হতো। হাতানো সেই জমির ওপরই তড়িঘড়ি উঠে যেত বহুতল আবাসন।

রাজনৈতিক সংযোগ ও আইনি চাপ নথি জালিয়াতি থেকে শুরু করে জমি দখলের এই সাম্রাজ্য পরিচালনায় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দেবাশিস কুমারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদত ছিল বলে অভিযোগ। চলতি বছরের এপ্রিলে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই সূত্রের জেরেই দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছিল আয়কর দফতর এবং পরবর্তীতে তাঁকে ইডি দফতরেও হাজির হতে হয়েছিল।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অমিতের এই গ্রেফতারি প্রাক্তন বিধায়কের ওপর নতুন করে আইনি চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। ইডির মুখোমুখি জেরায় ধৃত ব্যবসায়ী আর কী বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন, সেদিকেই নজর গোয়েন্দাদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *