রাজ্যের আরও ১৭১ কলেজে নতুন সভাপতি নিয়োগ, শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির রং বদল ঘিরে বিতর্ক

রাজ্যের আরও ১৭১ কলেজে নতুন সভাপতি নিয়োগ, শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির রং বদল ঘিরে বিতর্ক

রাজ্যের উচ্চশিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি বলেই অভিযোগ উঠছে নানা মহল থেকে। মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকার দলীয় প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের কথা বললেও বাস্তব চিত্র অন্য কথা বলছে। গত অগস্টে ২৪৭টি সরকারপোষিত কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি তালিকা প্রকাশের পর, এবার প্রকাশিত ১৭১টি কলেজের নতুন তালিকায় সিংহভাগ পদে স্থান পেয়েছেন শাসক দলের প্রবীণ নেতা, বিধায়ক, সাংসদ ও পদাধিকারীরা।

কলকাতা ও জেলা— সমস্ত এলাকার নামী কলেজগুলিতেই দলীয় নেতাদের শীর্ষ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:

  • কলকাতা ও শহরতলি: সুরেন্দ্রনাথ কলেজে তমোঘ্ন ঘোষ, সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ফর উইমেনে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলেজে শিশির বাজোরিয়া, বাসন্তী দেবী কলেজে শশী অগ্নিহোত্রী হেরা এবং হেরাম্বা চন্দ্র কলেজে রাজকমল পাঠক সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সম্মিলনী মহাবিদ্যালয়ের শীর্ষে বসানো হয়েছে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে।
  • জেলাসমূহ: পুরুলিয়ার বলরামপুর কলেজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোকে। পাশাপাশি বীরভূম, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, হাওড়া সহ বিভিন্ন জেলার কলেজেও শাসকদলের রাজ্য ও জেলা স্তরের কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে।

তৃণমূল আমলে প্রায় প্রতিটি কলেজের পরিচালন সমিতিতে শাসকদলের সাংসদ বা বিধায়কদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠত। নতুন সরকার এসে সেই সব পুরনো পদাধিকারীদের ইস্তফা দিতে নির্দেশ দিলে মনে করা হয়েছিল শিক্ষাঙ্গন দলীয় প্রভাবমুক্ত হবে। কিন্তু পরপর দুটি তালিকায় দলীয় নেতৃত্বেরই প্রাধান্য দেখে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের পথেই হেঁটেছে বর্তমান শাসকদলও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *