হেরিটেজ পর্যটনে বড় বিপ্লব: রাজ্য ও ASI-এর যৌথ উদ্যোগে বদলাচ্ছে ১৩৫টি ঐতিহাসিক স্থান

বাংলার ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের (ASI) সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজ্যের ১৩৫টি কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ ও ঐতিহাসিক স্থানকে নতুন পর্যটন সার্কিটের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। উদায়চল টুরিজ়ম প্রপার্টিতে পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ ও প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
মূল ফোকাস ও জেলা নির্বাচন বিষ্ণুপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, কোচবিহার, হুগলি, কলকাতা, নদিয়া এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো ঐতিহাসিক জেলাগুলির দর্শনীয় স্থানগুলি এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা
- পরিকাঠামো উন্নয়ন: পানীয় জল, শৌচাগার, সুসজ্জিত চলাচলের পথ, বসার জায়গা, ল্যান্ডস্কেপিং ও পার্কিং ব্যবস্থা।
- প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা: সিসিটিভি নজরদারি, অডিয়ো গাইড, ডিজিটাল তথ্যফলক এবং স্মারক সামগ্রীর দোকান।
- অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পর্যটকদের সুবিধার জন্য স্পর্শনির্ভর পথ, ব্রেইল ব্যবস্থা ও র্যাম্প।
সংরক্ষণ ও যৌথ পরিচালনা ঐতিহাসিক স্থাপত্যের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, তার জন্য ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংক্রান্ত আইন মেনে কাজ তদারকি করবে ASI। পুরো বিষয়টি পরিচালনার জন্য রাজ্য ও ASI-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘যৌথ ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করা হবে।
অর্থায়ন ও রাজস্ব বণ্টন প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় তহবিল, রাজ্য সরকার, সিএসআর (CSR) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত রাজস্বের ৭০ শতাংশ রাজ্য সরকারের ভাগে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মূল সংরক্ষিত এলাকার বাইরে হেরিটেজ উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।