‘প্রতীক গৌণ, মমতার মুখই আসল’, প্রতীক-জটের মধ্যেই কমিশনের দরবারে দুই শিবির
তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং দলের প্রকৃত মালিকানা কার— তা নিয়ে লড়াই এবার দিল্লির নির্বাচন কমিশনে। আজ, বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন সদনে দুই শিবিরকেই আলাদাভাবে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিকেল তিনটেয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল এবং চারটেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিত্বকারী কালীঘাট শিবিরকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও তাঁদের আইনজীবীরা দিল্লি পৌঁছাচ্ছেন। কালীঘাট শিবিরের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রতীক জট পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের উপনির্বাচনে ইতিমধ্যেই দুই শিবিরের প্রার্থীরাই জোড়াফুল প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আজ মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি হওয়ায় রিটার্নিং অফিসারদের চোখ এখন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিন। তার আগেই কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নয়তো চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশে আইনি জটিলতা তৈরি হবে।
দুপক্ষের যুক্তি ও রাজনৈতিক তর্জা প্রতীক-সংকট নিয়ে কালীঘাট শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানান, বিষয়টি কোর্ট ও কমিশনের বিবেচনাধীন। তবে ইন্দিরা গান্ধীর প্রতীক বদলের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “প্রতীক গৌণ, মমতার মুখই আসল ভরকেন্দ্র।” অন্যদিকে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কমিশনের কাছে তাঁদের জবাব পাঠানো হয়েছে এবং তাঁরা সম্পূর্ণ আস্থা রাখছেন। একই সঙ্গে বিদ্রোহী ১০ বিধায়ককে বরখাস্ত করার জন্য শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দেওয়া আবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।