ভাইয়ের সই জাল করে দেড় কোটি লোপাট! অবশেষে বড়বাজার পুলিশের জালে ব্যবসায়ী

ভাইয়ের সই জাল করে দেড় কোটি লোপাট! অবশেষে বড়বাজার পুলিশের জালে ব্যবসায়ী

কলকাতা: যৌথ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নিজের ভাইয়ের স্বাক্ষর জাল করার মারাত্মক সত্য প্রকাশ্যে এলো। দীর্ঘ আড়াল-আবডাল ও আইনি টালবাহানার পর অবশেষে বড়বাজার থানার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী পবন ভীমসরিয়া। বুধবার রাতে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে পুলিশ।

প্রতারণার কৌশল ও কোটি টাকার তছরুপ ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে। অভিযোগকারী সঞ্জয় ভীমসরিয়া এবং অভিযুক্ত পবন ভীমসরিয়া—উভয়ই ‘এম/এস এসডিবি ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি সংস্থার যৌথ ডিরেক্টর। কলকাতার এম রোডের ‘ব্যাঙ্ক অব বরোদা’ শাখায় তাঁদের সংস্থার একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট ছিল, যা দুই ভাইয়ের যৌথ স্বাক্ষরেই পরিচালিত হতো।

সঞ্জয়বাবুর দাবি, পারিবারিক ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকেই তিনি সংস্থার কোনও চেকে সই করেননি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ২১ নভেম্বর তাঁর অজান্তে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে অননুমোদিতভাবে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাঙ্কের নথিপত্র ও চেক খতিয়ে দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর সই জাল করেই এই বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতির পেছনে ব্যাঙ্কের কয়েকজন অসাধু কর্মী জড়িত থাকতে পারেন বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি অভিযোগের তীর শুধু অভিযুক্ত পবনের দিকেই নয়, বরং বড়বাজার থানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন সঞ্জয় ভীমসরিয়া। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রভাবশালী হওয়ার সুবাদে পবন দিব্যি বাড়ি ও অফিসে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাঁকে খাতায়-কলমে ‘পলাতক’ দেখিয়ে আড়াল করছিল।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত সুবিচারের আশায় সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেন অভিযোগকারী ভাই।

চিঠি পাওয়ার পর ও সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি চর্চায় আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার রাতে পবনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রতারণা চক্রের বাকিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *