তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’! কমিশনের নির্দেশে শোরগোল, পাল্টা আইনি লড়াইয়ে মমতা

তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’! কমিশনের নির্দেশে শোরগোল, পাল্টা আইনি লড়াইয়ে মমতা

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ঐতিহাসিক ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত বন্ধ (ফ্রিজ) ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৈরি হওয়া দলের নাম ও প্রতীক আটকে যাওয়ার পর থেকেই জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

কমিশনের রায়ে নারাজ মমতা শিবির নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশ কোনোভাবেই মেনে নিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা। খবর পাওয়ার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাতেই আইনজীবীদের সাথে আইনি কৌশল নিয়ে আলোচনায় বসেন। বিদেশে চোখের চিকিৎসাধীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও জরুরি পরামর্শ হয়েছে।

দলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, “কমিশনের এই অর্ডারে বেশ কিছু অবাস্তব দিক রয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্ত মানছি না এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

সিদ্ধান্তকে স্বাগত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্য দিকে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। গভীর রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে ঋতব্রত বলেন, “এতদিন তৃণমূলে প্রাইভেট লিমিটেড কো ম্পা নির মতো একতরফা কারবার চলত, কর্মীদের কোনো মূল্যায়ন হতো না। কমিশনের রায়ে সেটা স্পষ্ট। আমরা নিজেদের কার্যকরী কমিটিতে আলোচনা করে গণতান্ত্রিক উপায়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”

সুর চড়ালো বিরোধী দলগুলি এই ঘটনায় রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে:

  • সিপিএম (সুজন চক্রবর্তী): “তৃণমূল আজ তিন-চার টুকরোয় বিভক্ত। রাজ্যে বিজেপিকে ঢোকানোর পেছনে ওরাই দায়ী, ফলে এমন পরিণতি প্রত্যাশিতই ছিল।”
  • কংগ্রেস (কে সি ভেনুগোপাল ও পবন খেরা): “অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের পর গভীর রাতে মোদীজিকে জন্মদিনের উপহার দিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা ভুলে অন্যায় কাজ করেছে।”
  • সমাজবাদী পার্টি (অখিলেশ যাদব): “নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিলেই প্রতিষ্ঠানের সম্মান বজায় থাকে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *