নাকা চেকিংয়ে জাল নোট ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার! হরিহরপাড়ায় পুলিশের জালে ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’র রাজ্য সম্পাদক

মুর্শিদাবাদ: গভীর রাতে পুলিশের নাকা চেকিংয়ে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার গাড়িনামা এলাকায়। এই ঘটনায় হুমায়ুন কবিরের ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’-র রাজ্য সম্পাদক আশিক ইকবালসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পেছনে বড় কোনো পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তল্লাশিতে কী কী উদ্ধার হলো? শুক্রবার গভীর রাতে হরিহরপাড়া থানার একটি বিশেষ দল গাড়িনামা এলাকায় নাকা চেকিং চালাচ্ছিল। সেই সময় একটি সন্দেহভাজন বোলেরো গাড়িকে আটকে তল্লাশি শুরু করতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় পুলিশকর্মীদের। গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়:
- ১০৮টি ৫০০ টাকার জাল নোট (মোট মূল্য ৫৪ হাজার টাকা)
- ২টি আগ্নেয়াস্ত্র
- ৪ রাউন্ড তাজা গুলি
অভিযুক্তদের পরিচয়: ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে হরিহরপাড়ার কেবলরামপুরের বাসিন্দা তথা গত বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নেতা আশিক ইকবাল এবং সাহাজাদপুরের বাসিন্দা বাবলু শেখ-কে।
পুলিশি তদন্ত ও হেফাজত: শনিবার অভিযুক্তদের মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে তোলা হয়। বিপুল পরিমাণ জাল নোট এবং আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে আসছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা জানতে হরিহরপাড়া থানা ধৃতদের ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, এর পেছনে বড় কোনো আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য পাচার চক্রের হাত থাকতে পারে।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক তরজা: ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোড় রাজনৈতিক শোরগোল:
- আমজনতা পার্টির বক্তব্য: দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন কবির অভিযোগ তুলেছেন, “বিজেপি পুলিশকে দিয়ে চক্রান্ত করে বিরোধীদের ভয় দেখাচ্ছে। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামুক্ত করতে এবং বিরোধী প্রার্থীদের চাপিয়ে রাখতেই এই পরিকল্পিত চক্রান্ত করা হয়েছে।”
- বিজেপির পাল্টা জবাব: রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, “কে জাল টাকা আনল বা কে বোম বাঁধল—তা নিয়ে বিজেপি মাথা ঘামায় না। রেজিনগরে সুশাসন ও শিল্প আনার লড়াইয়ে বিজেপি জয়ী হতে চলেছে। ছোটখাট বিষয় নিয়ে বিজেপি চিন্তিত নয়।”