চিন-পাকিস্তানকে আঁটসাঁট জবাব! ড্রোন ও সিসিটিভির সাইবার ফাঁদ রুখতে সেনার ‘আশ্বস্ত’ চাল

যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা সীমান্ত এলাকা—শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং সাইবার হামলা ভেস্তে দিতে বড়সড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনার ব্যবহৃত ড্রোন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মতো ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির সফটওয়্যার বা ‘ফার্মওয়্যার’ (Firmware) স্তরের সুরক্ষা ত্রুটি শনাক্ত করতে এবার দেশজুড়ে তৈরি হচ্ছে ৬টি বিশেষ ল্যাব। সেনার এই মেগা উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আশ্বস্ত’ (AASHVAST)।
ইতোমধ্যেই নয়াদিল্লিতে প্রথম ‘আশ্বস্ত’ ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও পাঁচটি ল্যাব সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালু করা হবে।
কী এই ‘আশ্বস্ত’ (AASHVAST)? ‘AASHVAST’-এর পূর্ণরূপ হলো—Assessment and Analysis of Electronic Systems Hardware for Vulnerabilities and Security Threats।
কেন এই বিশেষ ব্যবস্থা? অনেক সময় ড্রোন বা নজরদারি সিসিটিভির ভেতরে গোপন কোড, বিশেষ সময়ভিত্তিক ডিজিটাল বাগ (Bug) বা প্রচ্ছন্ন কম্যান্ড দেওয়া থাকে। সংবেদনশীল মুহূর্তে এই কোড সক্রিয় করে ড্রোনকে নিষ্ক্রিয় বা বিকল করে দিতে পারে প্রতিপক্ষ। এছাড়া, অনেক সময় ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ট্যাগ থাকলেও ভেতরের খুচরো যন্ত্রাংশ চিন বা অন্য কোনো দেশের তৈরি কি না, তা সাধারণ পরীক্ষায় ধরা কঠিন। এই ধরণের প্রায় ১৪টি বড় আকারের সাইবার ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি নিমেষে সনাক্ত করতে সক্ষম এই ‘আশ্বস্ত’ ল্যাব।
সেনার এই উদ্যোগের মূল দিকগুলি:
- ডিজি ইএমই-র ভাবনা: ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (DG EME)-এর এই ভাবনায় বিশেষ সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে ‘কুইকপে প্রাইভেট লিমিটেড’ (QuickPay Pvt Ltd)।
- সিসিটিভি ও ড্রোন স্ক্যানিং: সেনার ব্যবহৃত ড্রোনের পাশাপাশি নতুন কেনা সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা কড়া পরীক্ষার মুখে পড়বে। লক্ষ্য একটাই—যন্ত্রপাতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিদেশি (বিশেষত চিনা) প্রোটোকল বা রিমোট অ্যাক্সেস সরঞ্জাম পুরোপুরি মুছে ফেলা।
- ফাঁকফোকর বন্ধ: এতদিন কেনা ড্রোনগুলোতে ফার্মওয়্যার স্তরের সাইবার পরীক্ষার এমন উন্নত সুবিধা ছিল না। ‘আশ্বস্ত’ সেই ঘাটতি পূরণ করবে, যা যুদ্ধের ময়দানে ড্রোন অপারেশনকে করবে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য।
‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর অঙ্গীকার নিয়ে ভারতীয় সেনার এই নতুন প্রযুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তাকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তুলবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।