‘মেট্রো আসছে’ শুনেই জমি কিনছেন? সতর্ক না হলে পস্তাবেন! বিশেষজ্ঞদের বড় পরামর্শ
কলকাতা ও শহরতলিতে একের পর এক মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণ এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শিল্প পরিকাঠামোর বিকাশ—এই দুইয়ের জেরে বাংলায় জমি ও বাড়ির বাজারে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সমস্ত এলাকায় মেট্রো সংযোগ, শিল্পাঞ্চল এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা একসঙ্গে মিলছে, সেখানে প্রপার্টির চাহিদা আগামী দিনে তুঙ্গে পৌঁছাবে।
নজরে উত্তর ২০৪ পরগনার মেট্রো করিডর বরানগর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত ১২.৫ কিলোমিটারের ‘পিঙ্ক লাইন’ মেট্রো প্রকল্প অনুমোদিত হতেই সরগরম এই অঞ্চলের প্রপার্টি মার্কেট। বরানগর, কামারহাটি, আগরপাড়া, জলহাটি, সোদপুর, খড়দহ, টিটাগড় ও ব্যারাকপুরের মতো এলাকাগুলিতে এখনই প্রপার্টির চাহিদা বাড়ছে।
- বরানগরের রেকর্ড বৃদ্ধি: হাউজিং ডট কমের তথ্য অনুযায়ী, বরানগরে গত এক বছরে প্রপার্টির দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি বর্গফুটে গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৫,৮৩০ টাকা।
- ভাড়ার চাহিদা: মেট্রো স্টেশন কাছাকাছি এলে আবাসন বিক্রি এবং বাড়ি ভাড়ার বাজার একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। প্রোমোটাররাও এখন ‘মেট্রো কানেক্টিভিটি’-কে সামনে রেখেই বিক্রি বাড়াচ্ছেন।
শিল্পাঞ্চল বনাম রিয়েল এস্টেট বাজার শুধু শহরতলি নয়, রাজ্যের বড় শিল্পাঞ্চলগুলিকেও পাখির চোখ করছেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা।
- খড়গপুর: ইস্পাত, ইঞ্জিনিয়ারিং, টেলিকম ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের কারণে খড়গপুরে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। ফলে সেখানে স্থায়ী আবাসন, ভাড়া বাড়ি এবং দোকানপাটের চাহিদা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।
- কল্যাণী ও দুর্গাপুর: কল্যাণীর ৩২৪ একরের বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং দুর্গাপুরের ভারী শিল্পাঞ্চলের আশপাশে যাতায়াতের সুবিধা থাকায় দাম বাড়ছে জমি-বাড়ির।
- উলুবেড়িয়ার অন্য ছবি: উলুবেড়িয়ায় প্রায় ৭০টি শিল্প ইউনিট থাকা সত্ত্বেও সেখানকার রিয়েল এস্টেটের দাম খুব একটা বাড়েনি, বরং সামান্য কমেছে। অর্থাৎ, শুধু শিল্প থাকলেই যে জমির দাম রাতারাতি বাড়বে, তা নয়।
বিনিয়োগের আগে বিশেষজ্ঞদের জরুরি টিপস শুধু ‘মেট্রো আসছে’ বা ‘শিল্প তৈরি হবে’ শুনেই ঝোঁকের মাথায় টাকা ঢালা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
- কাগজপত্র যাচাই: জমি বা বাড়ির বৈধ সরকারি অনুমোদন ও আইনি কাগজপত্র ভালোভাবে খতিয়ে দেখুন।
- পরিকাঠামো পর্যবেক্ষণ: নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগের রাস্তা ঠিকঠাক আছে কি না নিশ্চিত করুন।
- বাস্তব অগ্রগতি: প্রকল্পের কাজ কতটা দ্রুত এগোচ্ছে এবং স্টেশন বা কারখানা থেকে দূরত্ব কতটা, তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিন।