‘ক্ষমতা থাকলে বিজেপিতে যান!’ এনসিপিআই বিতর্ক নিয়ে কুণালের চরম তোপ, ত্রিশঙ্কু ২০ সাংসদ

‘ক্ষমতা থাকলে বিজেপিতে যান!’ এনসিপিআই বিতর্ক নিয়ে কুণালের চরম তোপ, ত্রিশঙ্কু ২০ সাংসদ

তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদকে ঘিরে চড়ছে রাজ্য রাজনীতির পারদ। লোকসভার স্পিকারের নোটিসের জবাব দিতে সময় চাওয়ার মধ্যেই এবার ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে ‘পার্টি দখলের’ বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল।

‘পার্টি দখলের’ বিস্ফোরক অভিযোগ স্পিকারের কাছে NCPI-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনু দে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছেন, মূল প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের না জানিয়েই দল দখলের চেষ্টা করছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। শান্তনুর সাফ চ্যালেঞ্জ— “যাঁরা এনসিপিআইয়ে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন। ক্ষমতা থাকলে এবার এই দলের টিকিটে জিতে আসুন। দুই-তৃতীয়াংশ লোক কোথায়?”

জাতীয় কমিটিতে ঠাঁই নেই সুদীপ-কাকলির মঙ্গলবার প্রকাশিত NCPI-এর নতুন জাতীয় কমিটিতে দেব, ইউসুফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের খান ও জগদীশ বসুনিয়াকে সহ-সভাপতি এবং মিতালি বাগ ও বাপি হালদারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তবে তাজ্জব বিষয় হলো, এই শিবিরের প্রধান মুখ হিসেবে নাম উঠে আসা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষদস্তিদারের নাম ওই কমিটি থেকে পুরোপুরি বাদ পড়েছে।

বিজেপির দরজাও কি বন্ধ? সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া দাবি করেছিলেন, পুজোর আগেই ১৭ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেবেন। কিন্তু রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই সম্ভাবনা একঝটকায় উড়িয়ে দিয়ে জানান, ২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার কথা বিজেপি ভোলেনি। তাঁর কড়া বার্তা— “বিজেপির পতাকা হাতে নিলেই সমস্ত পাপ মুছে যাবে, এমন মনে করার কারণ নেই।”

‘বেইমান ও সুবিধাবাদী’: কুণাল ঘোষের তোপ দলত্যাগ বিরোধী আইনে ২০ জন সাংসদের পদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল। এর মাঝেই সাংসদদের সময় চাওয়ার আর্জিকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “ক্ষমতা থাকলে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিন। সাংসদ পদ বাঁচানোর জন্য এখন সময় চাইছেন কেন? এরা দলবদলু ও সুবিধাবাদী।”

সব মিলিয়ে, তৃণমূল ছাড়ার পর এনসিপিআই ও বিজেপি—দুই শিবিরেই প্রবল ধাক্কা খেয়ে এখন ত্রিশঙ্কু অবস্থায় ঝুলছেন বিদ্রোহী সাংসদরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *