নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ পাকা? পশ্চিমিদের বড় ধাক্কা দিয়ে মস্কোর তোলপাড় ফেলা ঘোষণা!

নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ পাকা? পশ্চিমিদের বড় ধাক্কা দিয়ে মস্কোর তোলপাড় ফেলা ঘোষণা!

কলকাতা: আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ফের একবার নিজেদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধুত্বের প্রমাণ দিল রাশিয়া। জাতিসংঘ বা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় সুর চড়ালো মস্কো। একই সঙ্গে জার্মানি ও জাপানের মতো পশ্চিমি মিত্র দেশগুলির স্থায়ী সদস্য হওয়ার পথ কঠিন করে দিয়ে ভারত ও ব্রাজিলের দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানাল পুতিন প্রশাসন।

সম্প্রতি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ পশ্চিমি দেশগুলির ওপর তীব্র আক্রমণ সানান। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, “নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার প্রক্রিয়ায় পশ্চিমি দেশগুলির—বিশেষ করে জার্মানি ও জাপানের মতো রাষ্ট্রের—জন্য নতুন করে কোনো অতিরিক্ত আসন বরাদ্দ করা উচিত নয়। কারণ, এই দেশগুলি বর্তমানে সামরিক আধিপত্য এবং প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।”

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। কিন্তু এই টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারতের সঙ্গে নিজের স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত অংশীদারিত্বে বিন্দুমাত্র আঁচ পড়তে দেয়নি রাশিয়া।

নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে লাভরভ জানান, এতদিন ধরে যে দেশগুলি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বঞ্চিত থেকেছে, সেই এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোটাই এখন আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। সেই যুক্তি মেনেই ভারত ও ব্রাজিলের স্থায়ী সদস্যপদের প্রারম্ভিক দাবিকে রাশিয়া পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে বলে তিনি ঘোষণা করেন।

বর্তমান পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ব্রিকস (BRICS), সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) এবং ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের মতো জোটগুলির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি, তথ্য নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মনোপলি না রেখে রাষ্ট্রসঙ্ঘকেই প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে রাখার পক্ষে সওয়াল করেছে মস্কো।

বিশ্বরাজনীতির এই সংকটময় মুহূর্তে রাশিয়ার এহেন প্রকাশ্যে জোরালো সমর্থন আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের কূটনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *