‘দক্ষিণে চলো’ নয়, বাংলাতেই সেরা চিকিৎসা! রোগী ভর্তি থেকে গাইড—বড় উদ্যোগ চিকিৎসকদের

জেলা বা মফস্বল থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে উপযুক্ত হাসপাতাল খুঁজে পাওয়া কিংবা ভর্তি করানো—রোগীর পরিজনদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল ‘সনাতনী স্বাস্থ্য সেনা’। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোগীদের সহায়তায় খুব শীঘ্রই একটি টোল-ফ্রি নম্বর চালু করা হবে।
কী কী সুবিধা মিলবে এই হেল্পলাইনে? সংগঠনটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে শুধুমাত্র সংগঠনের সদস্য হওয়াই নয়, মিলবে হাসপাতাল সংক্রান্ত যাবতীয় গাইড ও ভর্তির ক্ষেত্রে সরাসরি সাহায্য। মূলত সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অভিজ্ঞ চিকিৎসক, বেসরকারি হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান, নার্স এবং এমবিবিএস পড়ুয়াদের নিয়ে গড়ে উঠেছে এই ‘রাষ্ট্রবাদী’ সংগঠনটি।
সংগঠনের ন্যাশনাল চেয়ারম্যান ডা. পি কে হাজরা জানান, “শিগগিরই এই টোল-ফ্রি নম্বর প্রকাশ করা হবে। আমাদের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকরা শহরের বিভিন্ন খ্যাতনামা হাসপাতালে কর্মরত। ফলে বাইরে থেকে আসা রোগীদের আমরা সঠিক পথ দেখাতে পারব।”
‘দক্ষিণে চলো’ প্রবণতা বন্ধের লক্ষ্য: উন্নত চিকিৎসার তাগিদে বাংলা থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পাড়ি দেন। এই প্রবণতা কমিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফেরানোই তাদের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। এর জন্য বাংলায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আনারও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
এই সংগঠনের সঙ্গে একাধিক সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসকের পাশাপাশি ভারত মহারাজ ও কার্তিক মহারাজের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা যুক্ত রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। রক্তদান শিবির, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং রোগী পরিষেবা—সব মিলিয়ে নিজেদের কাজের পরিধি আরও বড় করতে চলেছে ‘সনাতনী স্বাস্থ্য সেনা’। এখন দেখার, এই টোল-ফ্রি নম্বর চালু হওয়ার পর সাধারণ মানুষ বাস্তবে কতটা উপকৃত হন।