SIR বিতর্ক: কমিশনের অন্দরে কি সত্যিই ফাটল? বিস্ফোরক রিপোর্টের পর মুখ খুলল EC

SIR বিতর্ক: কমিশনের অন্দরে কি সত্যিই ফাটল? বিস্ফোরক রিপোর্টের পর মুখ খুলল EC

নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘SIR’ (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। এরই মাঝে প্রকাশ্যে এল নির্বাচন কমিশনের (EC) অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংক্রান্ত এক চরম বিতর্ক।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বিস্ফোরক রিপোর্ট
সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে SIR প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। এমনকি কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে নেওয়া হয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

পাল্টা কী দাবি নির্বাচন কমিশনের?
রিপোর্ট সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশন সূত্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অন্দরে মতবিরোধের খবর ভিত্তিহীন। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির পর থেকে কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো কমিশনারই ভিন্নমত প্রকাশ করেননি।

কমিশনের পক্ষ থেকে আরও যেসব বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে:

২৫ হাজার আধিকারিকের ভূমিকা: SIR প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২৫ হাজার ERO এবং AERO-র কেউ কোনো অভিযোগ জানাননি।

Form 6 বিতর্ক: নতুন ভোটারদের নাম নিবন্ধনের ফর্ম ৬-এ কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: শীর্ষ আদালত কখনোই SIR প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বলেনি, বরং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাকবচ বজায় রেখে প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

গোয়া প্রযুক্তিগত বিভ্রাট: গোয়ায় ৯৭ জন ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি প্রযুক্তিগত কারণে হয়েছিল। তার মধ্যে ৮৮ জনের নাম ফের যুক্ত করা হয়েছে, ৩ জন পর্তুগালের নাগরিক এবং ৬ জন বিদেশে রয়েছেন।

বেলা এস্টেট ইস্যু: রাহুল গান্ধীর তোলা ৭২৭ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে কমিশন জানিয়েছে, BLO-রা যাচাই করতে গিয়ে সেখানে কাউকে পাননি। সই করা আবেদন জমা পড়লে খসড়া তালিকায় নাম যুক্ত করা হবে।

১১ কোটি নামের দাবি: বাতিল নাম ও চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম মোছার বিষয়টি এক নয়। যাচাই প্রক্রিয়া চলাকালীন সাময়িক বাদ পড়া নাম নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

বিতর্কের মূলে কী?
একদিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দুই কমিশনারের ১৪ বার লিখিত আপত্তির দাবি, আর অন্যদিকে কমিশনের “সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের” সাফাই—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানে এখন জোর চর্চা চলছে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *