ভুয়ো PMO অফিসার সেজে নবান্নে ‘অনুপ্রবেশ’! দিল্লি থেকে গ্রেফতার রহস্যময়ী নারী
ভুয়ো পিএমও (PMO) আধিকারিক পরিচয় দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর ‘নবান্নে’ ঢুকে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হলো এক মহিলাকে। অভিযুক্ত মহিলার নাম আকাঙ্ক্ষা বিদ্যার্থী, যিনি দিল্লির বাসিন্দা। হাওড়া সিটি পুলিশের একটি বিশেষ টিম দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে ট্রানজিট রিমান্ডে শুক্রবার সকালে রাজ্যে নিয়ে এসেছে।
কী ঘটেছিল নবান্নে? পুলিশ সূত্রের খবর, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েই নবান্নে এসেছিলেন আকাঙ্ক্ষা। নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের উচ্চপদস্থ অফিসার পরিচয় দিয়ে তিনি পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার এবং দফতরের একাধিক শীর্ষকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রশাসনিক কথাবার্তার ফাঁকেই কিছু সংবেদনশীল সরকারি তথ্য জানতে চান তিনি। তবে তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করে সন্দেহ জাগে উপস্থিত আধিকারিকদের।
তদন্ত ও দিল্লি থেকে গ্রেফতার বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই চতুরতার সঙ্গে দ্রুত নবান্ন ছেড়ে সটকে পড়েন ওই মহিলা। এরপর তাঁর আসল পরিচয় সামনে আসতেই নবান্নের পূর্ত দফতরের তরফ থেকে শিবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরেই প্রযুক্তিগত নজরদারির (Technical Surveillance) সাহায্য নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের একটি বিশেষ দল দিল্লিতে ওই মহিলার নিখুঁত অবস্থান চিহ্নিত করে। বৃহস্পতিবার দিল্লির আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ড আদায় করে শুক্রবার সকালে বিমানবন্দর হয়ে শিবপুর থানায় নিয়ে আসা হয় তাঁকে।
নেপথ্যে কি বড় কোনও চক্র? অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতিসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তাঁকে হাওড়া আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের (CJM) এজলাসে তোলা হচ্ছে। ঠিক কোন উদ্দেশ্যে এমন হাই-প্রোফাইল ভুয়ো পরিচয় নিয়ে তিনি নবান্নে ঢুকেছিলেন এবং এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য চক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।