দোকান অবৈধ হলেও নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া যায় না! বুলডোজার কাণ্ডে রাজ্যকে বড় বার্তা হাইকোর্টের
ফুটপাত কিংবা সরকারি জায়গা দখল করে চলা অবৈধ দোকান উচ্ছেদের পদ্ধতি নিয়ে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে চলা একটি উচ্ছেদ মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও দোকান বা ব্যবসা বেআইনি হলেও তা নিজের ইচ্ছেমতো বুলডোজার বা জেসিবি চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর জন্য সবসময় নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।
সম্প্রতি এক দোকানদারকে উচ্ছেদ করার আগে তাঁর দোকানের সামনে জেসিবি দিয়ে বড় গর্ত করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আদালতের নজরে আসতেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কী হচ্ছে এটা? ওরা জেসিবি ব্যবহার করেছে!” যদিও রাজ্যের তরফ থেকে জানানো হয় যে ওই ঘটনার সংশোধন করা হয়েছে, তবুও আদালতের পর্যবেক্ষণ—কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিস্থিতি বদলের অজুহাতে কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি সংস্থা আইনের বাইরে গিয়ে এমন পদক্ষেপ করতে পারে না।
শুনানিতে বিশেষ নজর কেড়েছে পুলিশের ভূমিকা সংক্রান্ত প্রশ্ন। আদালত জানিয়েছে, যখন বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা জেসিবি নিয়ে দোকান সরাতে বা ভাঙচুর করতে নেমেছিলেন, তখন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের সামনে কীভাবে এমন বেআইনি কাজ চলল, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বেঞ্চ।
রাজ্যের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, যাঁদের দোকান আগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের পরবর্তীতে ফের বসার সুযোগ অর্থাৎ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। তবে হাইকোর্টের স্পষ্ট বার্তা, দখলদারি বেআইনি হলেও তার বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়ার নির্দিষ্ট আইনি পথ রয়েছে। সেই পথ এড়িয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কারও দোকান ভাঙা বা উচ্ছেদ করা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপই যেন আইনসম্মত সীমার মধ্যে থাকে, সেই কড়া নির্দেশই দিয়েছে আদালত।