কলকাতার রিয়েল এস্টেট ছিল এক বিশাল স্ক্যাম! সাফ দাবি অর্থমন্ত্রীর, বদলাতে আসছে বড় দাওয়াই

একটা সময় রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকা কিছু প্রভাবশালী মানুষের খপ্পরে পড়ে কলকাতার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা একপ্রকার ‘স্ক্যামে’ পরিণত হয়েছিল। সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ওই চক্র বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিল বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তবে এবার সেই জট কাটিয়ে কলকাতার আবাসন বাজারে বড় বদল আনতে বড় ও সংগঠিত রিয়েল এস্টেট সংস্থাকে ময়দানে নামানোর জোরালো সওয়াল করলেন তিনি।
‘স্ক্যামে পরিণত হয়েছিল রিয়েল এস্টেট বাজার’ সম্প্রতি কলকাতায় রিয়েলটরদের শীর্ষ সংগঠন ‘ক্রেডাই’ (CREDAI)-এর এক সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা কিছু ব্যক্তি বা ‘হাঙর’ টাইপের মানুষ এই পুরো ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল। সাধারণ ক্রেতাদের বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা কামানোই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।
সংগঠিত রিয়েল এস্টেট আনার ডাক এই রুগ্ন ও অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি বদলাতে পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতায় আরও বেশি সংখ্যায় সংগঠিত রিয়েল এস্টেট সংস্থাকে যুক্ত করার কথা বলেন স্বপন দাশগুপ্ত। রিয়েলটরদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁরা কোনো একক বা স্বার্থপর ‘হাঙর’ নন, বরং একটি সংগঠিত শক্তির প্রতিনিধি। এই পেশাদার সংস্থাগুলি বাজারে এলে ব্যবসার ক্ষেত্রে যেমন স্বচ্ছতা ও নিয়ম কড়াকড়ি হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরবে।
বড় ডেভেলপারদের আহ্বান ও RERA কার্যকরের তাগিদ রাজ্য সরকার আগামী দিনে যে সমস্ত বড় মাপের পরিকাঠামো ও আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে, তাতে নামী ও বড় সংস্থাগুলিকে রাজ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কলকাতা শহরকে নতুন রূপ দিতে গেলে সুপরিকল্পিত উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। একইসঙ্গে রাজ্যে ‘RERA’ (রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি) নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন তিনি।
পিছিয়ে থাকা অর্থনীতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ এদিনের মঞ্চ থেকে রাজ্যের অতীত শাসনকাল ও সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খোলেন স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর মতে, কলকাতা তার অতীতের গৌরব নিয়ে বড়াই করলেও বিগত প্রায় ৫০ বছর ধরে শিল্প মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে রাজ্যের সামনে সেই হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার এবং ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ সুযোগ রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।