পুজোর আগেই স্বস্তি! অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া মহিলাদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

পুজোর আগেই স্বস্তি! অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া মহিলাদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) চালুর পর মাত্র চার মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বিজেপি সরকারের এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্প। তবে যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা পৌঁছায়নি, তাঁদের মনে কিছুটা দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল। এই আবহে আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। যা শুনে এক প্রকার স্বস্তি পেয়েছেন বহু মহিলা।

শুক্রবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া ‘সেবা সেতু’ ক্যাম্পে অন্নপূর্ণা যোজনা সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যাঁদের আবেদন করার পরেও এখনও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি, তাঁরাও এই ক্যাম্পগুলোতে এসে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে যোগ্য অথচ টাকা না পাওয়া মহিলাদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ভেরিফিকেশন ও প্রসেসিংয়ের কাজ প্রায় শেষের পথে। একজনও যোগ্য মহিলা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

গত কাল নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে প্রচারে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরুলিয়া মহেশ্বর বাজার এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে তিনি বলেন, “এখনও অবধি রাজ্যে ১ কোটি ৫৮ লক্ষ এবং একুশ শতকের এই নন্দীগ্রামেই ৭০ হাজার ৩০০ জন দিদি-বোনকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি যে সমস্ত যোগ্য প্রার্থীরা রয়েছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টেও দ্রুত টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভেরিফিকেশন ও সমস্ত প্রক্রিয়া এখন সম্পন্ন হওয়ার পথে। রাজ্যের একজন হিতাধিকারীও বঞ্চিত হবেন না।”

পাশাপাশি, এ দিন পিএম কিষাণ যোজনা, আবাস যোজনা সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প নিয়েও বড় বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মানুষ যাতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা পান, সেই ব্যবস্থা ধীরে ধীরে করা হচ্ছে। এছাড়া বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। পিএম কিষাণ যোজনার অনুদান ৬ হাজার টাকার পরিবর্তে বাড়িয়ে ৯ হাজার টাকা করা হয়েছে। কৃষক বন্ধুর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ হলেই কৃষকরাও তাঁদের টাকা পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি, আবাস যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্যে ৫৪ লক্ষ মানুষ সহ শুধুমাত্র নন্দীগ্রামের ১৩,৭০০ জন উপভোক্তা আবাস যোজনার পাকা ঘরের অনুদান পাবেন।

উল্লেখ্য, রাজ্যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করা হয়। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের চারটি কিস্তির টাকা সফলভাবে উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এবার অক্টোবরের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ার ঠিক আগে, টাকা না পাওয়া আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *