নরবলি দিয়ে মিলেছে গুপ্তধন! ডাইনি অপবাদে প্রৌঢ়াকে বেধড়ক মারধর, ভাঙচুর বাড়ি

অন্ধবিশ্বাসের বশে চরম অমানবিকতার ছবি উঠে এল ওডিশা থেকে। রাতারাতি আর্থিক অবস্থা বদলানোর জেরে এক প্রৌঢ়াকে ‘ডাইনি’ অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের একাংশের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নরবলি দিয়ে গুপ্তধন পাওয়ার কাল্পনিক অভিযোগে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে নগদ টাকা ও গয়না লুটেরও অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওডিশার ভদ্রক জেলার বানিতিয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার ৬ দিন পর গত বুধবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী প্রিয়তমা মোহান্তি (৫৪)। বর্তমানে পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বানিতিয়া গ্রামে একা থাকেন প্রৌঢ়া প্রিয়তমা। তাঁর স্বামী কাজের সূত্রে ওডিশার বাইরে থাকেন এবং দুই ছেলেও পড়াশোনার সুবাদে বাইরে থাকেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রিয়তমা নাকি সম্প্রতি নিজের বাড়িতে নরবলির আচার-অনুষ্ঠান করেছিলেন। এর পরেই তাঁর আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে— এমন সন্দেহ করে বসেন প্রতিবেশীরা।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়, যখন ওই প্রৌঢ়ার এক আত্মীয় নাবালিকার অদ্ভুত আচরণ দেখে গ্রামবাসীরা ভয় পেয়ে যান। তাঁদের দাবি, ওই নাবালিকার উপর দেবতার ভর হয়েছিল। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। গত বৃহস্পতিবার দলবদ্ধভাবে প্রিয়তমার বাড়িতে চড়াও হন তাঁরা।
অভিযোগ, প্রৌঢ়াকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেদম মারধর করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে বাঁচাতে আসেন তাঁর এক ভাই। একটি অটোরিকশায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ও অটো থেকে নামিয়ে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বহু মানুষকে মহিলাকে চড়াও হয়ে মারধর করতে দেখা গেছে।
ভদ্রক রুরাল থানার আইআইসি সুব্রত দাস জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জন মহিলা সহ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে, তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।