রেজিনগরে হুমায়ুন বনাম শুভেন্দুর প্রেস্টিজ ফাইট! উপনির্বাচনে ছক বদলাচ্ছে বিজেপি?

রাজ্যের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনগুলির মধ্যে অন্যতম হল মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির জেতা এই আসনটি নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রটিকে নিজেদের অনুকূলে আনতে এবং আদর্শ মডেল বিধানসভা হিসেবে গড়ে তুলতে কোমর বেঁধে নেমেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সভাপতি থেকে শুরু করে দলের হেভিওয়েট নেতৃত্ব প্রচারের ঝড় তুলেছেন রেজিনগরে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মর্যাদার লড়াইয়ে একচমিও জমি ছাড়তে নারাজ পদ্ম শিবির।
অন্যদিকে, নিজের খাসতালুক ধরে রাখতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছেন হুমায়ুন কবীর। উপনির্বাচনে নিজের ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করেছেন তিনি। একদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে বামেরা ময়দানে থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে—সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত হুমায়ুনের ছেলের সঙ্গে বিজেপিরই মূল লড়াই হতে চলেছে।
ফ্যাক্টর সেই ‘মহিলা ভোট’!
রেজিনগর কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ লক্ষ ২২ হাজার ৪৯০ জন—যা মোট ভোটের প্রায় ৪৭ শতাংশ। প্রচারে গিয়ে এলাকার উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, রেজিনগরের একটা বড় অংশের সংখ্যালঘু মহিলা ভোটারও এবার পরিবর্তন ও প্রকৃত উন্নয়নের স্বাদ পেতে উদগ্রীব। বিগত সরকারের আমল নিয়ে ক্ষোভ গোপন করছেন না তাঁরা। এলাকার মানুষের মূল দাবি—ভালো হাসপাতাল, কলেজ এবং কর্মসংস্থান, যাতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাড়ির পুরুষরা আবার ঘরে ফিরে আসতে পারেন।
কেন ক্ষুব্ধ রেজিনগরের সংখ্যালঘু মহিলারা?
২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে রেজিনগরের বিধায়ক হলেও ২০১২ সালে তৃণমূলে যোগ দেন হুমায়ুন কবীর এবং বিধায়ক পদ ছাড়েন। ২০১৩ সালের উপনির্বাচনে তিনি হেরে যান। এরপর ২০২৬ সালের নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—উভয় আসন থেকেই জয়ী হয়ে শেষ পর্যন্ত নওদা রেখে রেজিনগরের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। বারবার বিধায়ক বদল ও পদত্যাগের ফলে হুমায়ুনের ওপরেও স্থানীয় মানুষের একাংশের বিরক্তি রয়েছে।
সংখ্যালঘু নারীদের অভিযোগ, আবাস যোজনার ঘর থেকে শুরু করে বার্ধক্য ভাতা—এমনকী করোনা কালে সরকারি রেশনের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন তাঁরা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। ঘরের পুরুষেরা পেটের টানে বাইরে থাকায় একাকী নারীদের জীবনে নিত্যদিনের সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই রেজিনগর উপনির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণে সবথেকে বড় ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারে এই মহিলা ভোটই!