‘অন্য বিকল্প ছিল না!’ শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়া নিয়ে বড় সাফাই হাইকমিশনারের

‘অন্য বিকল্প ছিল না!’ শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়া নিয়ে বড় সাফাই হাইকমিশনারের

নয়াদিল্লি: ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ নিয়ে অবশেষে অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান নিল নয়াদিল্লি। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সেই সংকটজনক মুহূর্তে শেখ হাসিনার বিমানকে ভারতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের সামনে অন্য কোনো বিকল্প খোলা ছিল না। প্রতিবেশীসুলভ মানবিকতা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ঢাকার মর্যাদাপূর্ণ ‘বে অফ বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাইকমিশনার স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনা ভারতের কোনো সামরিক বিমানে চেপে ভারতে আসেননি। বরং কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই তাঁর বিমান হঠাৎ করে ভারতে নামার অনুমতি চেয়েছিল। হাইকমিশনারের কথায়, “সেই পরিস্থিতিতে আমাদের হাতে বিশেষ কোনো বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াই আমাদের দায়িত্ব ছিল।”

প্রত্যর্পণ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কী জানাল ভারত? বাংলাদেশে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি দীর্ঘ দিন ধরেই জোরালো হচ্ছে এবং ঢাকার পক্ষ থেকে কূটনৈতিক নোটও পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চালু রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত বিধি মেনেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত হওয়ায় এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগাস্টে দেশ ছাড়ার পর থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের একটি আদালত তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়। যদিও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সেগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যকলাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

তারেক রহমানের ভারত সফর ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুর পাশাপাশি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এর আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। সম্প্রতি দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হলেও, ভারতের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওই ঘটনার সঙ্গে নয়াদিল্লির কোনো প্রত্যক্ষ যোগ নেই। বর্তমানে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা বজায় থাকলেও তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *