বাংলাদেশ ‘অকৃতজ্ঞ’, তাহলে তুরস্ক কী? ভারতের তেল কিনেও কাশ্মীরে পাকিস্তানের পাশে এরদোগান!

সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় নেটিজেনদের ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। ভারতের কাছ থেকে দিনের পর দিন নানা সুবিধা নেওয়া সত্ত্বেও, বাংলাদেশের ভারত-বিরোধী অবস্থানকে অনেকেই ‘অকৃতজ্ঞতা’ বলে তোপ দাগেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক কূটনীতির আঙিনায় শুধু বাংলাদেশই কি এমন করে? তুরস্কের কার্যকলাপের দিকে নজর দিলে কিন্তু চরম দ্বিচারিতার এক অন্য ছবি ফুটে ওঠে।
বিপদে ত্রাতা ভারত, আর বন্ধু পাকিস্তান! ২০২৩ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে যখন তুরস্ক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল, তখন ‘অপারেশন দোস্ত’-এর মাধ্যমে সবার আগে সাহায্য নিয়ে ছুটে গিয়েছিল ভারত। ভারতীয় উদ্ধারকারী দলের সেই কাজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়। কিন্তু সেই তুরস্কই আবার ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় নির্লজ্জভাবে ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারতের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পাকিস্তানকে অত্যাধুনিক ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করেছে এরদোগান সরকার।
কাশ্মীর ইস্যুতেও ভারতের বিরোধিতা শুধু সামরিক সাহায্যই নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতকে বিপাকে ফেলতে পিছপা হয়নি তুরস্ক। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভা থেকে শুরু করে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC)—সর্বত্রই কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে ভারতের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান।
মুখে বিরোধিতা, কিন্তু ভারতের চুপিচুপি ভারতের ডিজেল কেনা! সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত ভারত-বিরোধিতার পরেও জ্বালানির জন্য তুরস্কের অন্যতম ভরসার জায়গা এখন সেই ভারতই! মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তুরস্ক এখন ভারতীয় ডিজেলের দিকে ঝুঁকেছে। পরিসংখ্যান বলছে, আগস্ট মাসে ভারত থেকে তুরস্কের দৈনিক ডিজেল আমদানির পরিমাণ এক লাফে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে।
রাশিয়ার তেল নিয়ে দ্বিমুখী নীতি ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দেশগুলি বারবার সরব হয়েছে। ভারতের তেল কেনার ফলে পুতিনের যুদ্ধের তহবিল ভরছে, এমন অভিযোগও তুলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। অথচ, আশ্চর্যের বিষয় হলো ন্যাটোর সদস্য হয়েও তুরস্ক তার মোট জ্বালানির প্রায় ৮৫ শতাংশই কেনে রাশিয়া থেকে। তখন কিন্তু পশ্চিমি দুনিয়ার কোনো হুঁশিয়ারি শোনা যায় না!
বিশ্ব রাজনীতিতে স্বার্থই আসল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আসলে আবেগ বলে কিছু হয় না, পুরোটাই স্বার্থের খেলা। ভারত নিজের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের স্বার্থেই তেল রফতানি করে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের জন্য এক নিয়ম আর ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের জন্য আলাদা মাপকাঠি কেন? আগামী দিনে আমেরিকার সম্ভাব্য শুল্কনীতি বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপ কি তুরস্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে? সরষের মধ্যেই যদি ভূত থাকে, তবে বিশ্ব রাজনীতির এই ‘ভূতের রাজ্যে’ আসল ব্রহ্মদৈত্য কে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।