জ্ঞানেশ কুমার মামলায় বড় নির্দেশ! নির্বাচন কমিশনের নথি চাইল সুপ্রিম কোর্ট

ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম-৬’-এ পরিবর্তন এবং একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলির সমস্ত নথিপত্র আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
কী অভিযোগ উঠেছে? প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ সিং অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অন্য নির্বাচন কমিশনারদের কোনো মতামত বা সম্মতি না নিয়েই এককভাবে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের নাম নিবন্ধনের ‘ফর্ম-৬’-এ যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা কে বা কারা করেছে এবং কীভাবে চূড়ান্ত হয়েছে—তা নিয়ে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে।
স্থগিতাদেশে না, নথিতেই নজর আদালতের: মামলাকারীদের তরফে আবেদন জানানো হয়েছিল, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাজকর্মে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করা হোক। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে জ্ঞানেশ কুমারের কাজকর্মের উপর কোনো স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে না। সিদ্ধান্তগুলি আদৌ সংবিধান ও আইন মেনে নেওয়া হয়েছিল কিনা, আগে নথিপত্র যাচাই করেই সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: শুনানির সময় বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে সওয়াল করে বলেন, “একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করছে, তা অত্যন্ত চিন্তার। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের যে ঐতিহ্য ভারতে ছিল, তা আজ সংকটে।”
উল্লেখ্য, এই মামলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশীকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। আগামী শুনানিতে কমিশন আদালতে নথিপত্র জমা দেওয়ার পর পরিষ্কার হবে, কীভাবে নেওয়া হয়েছিল ওই বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলি।