ভোটের আগেই নন্দীগ্রামে বড় ধাক্কা! অপসারিত থানার আইসি, নিরাপত্তা আঁটসাঁট

ভোটের আগেই নন্দীগ্রামে বড় ধাক্কা! অপসারিত থানার আইসি, নিরাপত্তা আঁটসাঁট

নন্দীগ্রাম: রবিবারের প্রচার শেষের পর সোমবারে কিছুটা শিথিল মেজাজে ছিলেন প্রার্থীরা। তবে তার মাঝেই মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে বড়সড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। বিরোধীদের অভিযোগের মুখে পড়ে অপসারিত হলেন নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয়কুমার মিশ্র। তাঁর জায়গায় নতুন আইসি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দেবাশিস সরকার।

আইসি বদল ও বিরোধীদের স্বস্তি নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাম, কংগ্রেস ও বিজেপি। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে তাদের কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছিল। সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহির বক্তব্য, “ভিলেজ পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখাচ্ছিল। আমরা কমিশনে অভিযোগ জানানোর পরই এই ব্যবস্থা।” অন্যদিকে, জেলা কংগ্রেস ও বিজেপি নেতৃত্ব কমিশনকে সাধুবাদ জানিয়ে অবাধ নির্বাচনের দাবি তুলেছেন।

কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়, তার জন্য চণ্ডীপুর থেকে নন্দীগ্রামগামী রাস্তায় ক্ষুদিরাম মোড়ে চলছে জোরদার নাকা চেকিং।

  • সমস্ত বুথেই মোতায়েন থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
  • মঙ্গলবার নন্দল নায়কবাড়ে নিজের ভোট দেবেন মুখ্যমন্ত্রী, তাই নিরাপত্তার অতিরিক্ত বলয় তৈরি করা হয়েছে।
  • রেয়াপাড়া ডিসি আরসি (DCRC) কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যেই ইভিএম ও ভোট সামগ্রী নিয়ে বুথে পৌঁছে গেছেন ভোটকর্মীরা।

শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের ব্যস্ততা

  • বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ: সকালে শিব ও নারায়ণ মন্দিরে পুজো দিয়ে দিন শুরু করেন। পরিবারের লোক ও নাতনির শুভকামনা নিয়ে পরে দলের নেতাদের সঙ্গে ফোনে ভোটের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
  • কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান: বহিরাগতদের থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় চণ্ডীপুরের হোটেল থেকে দলীয় নেতৃত্ব ও এজেন্টদের নির্দেশ দেন।
  • বামপ্রার্থী শান্তি গোপাল গিরি: নন্দীগ্রাম বাজারে সিপিএম কার্যালয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারেন দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে।

প্রশাসনের বক্তব্য পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানান, “হলদিয়ার বদলে নন্দীগ্রামেই ডিসি আরসি ও গণনাকেন্দ্র করা হয়েছে যাতে ভোটকর্মীদের সুবিধা হয়। সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত।” অন্যদিকে, জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানান, “ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *