‘দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবেন?’ অভিষেকের নিরাপত্তা প্রত্যাহারে কেন্দ্র-রাজ্যকে তুলোধোনা হাইকোর্টের!

‘দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবেন?’ অভিষেকের নিরাপত্তা প্রত্যাহারে কেন্দ্র-রাজ্যকে তুলোধোনা হাইকোর্টের!

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা প্রত্যাহার মামলায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। নিরাপত্তা ছাঁটাই ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই সরকারকেই নজিরবিহীন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। শুনানি চলাকালীন আদালতের কড়া প্রশ্ন, “এই সময়ের মধ্যে যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তবে আপনারা কি তার দায় নেবেন?”

ঠিক কী ঘটেছে আদালতে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর অভিযোগ, রাজ্যে সরকার ও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাঁর মক্কেলের দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসা ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একাধিক জনসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি হামলার মুখে পড়েছেন এবং একাধিকবার মারাত্মক নিরাপত্তা গাফিলতি ঘটেছে।

পাল্টা যুক্তি কেন্দ্র ও রাজ্যের:

  • রাজ্য সরকার: গোয়েন্দা বিভাগের ‘থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’ বা হুমকির মাত্রা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করেই পুলিশি নিরাপত্তা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল।
  • কেন্দ্রীয় সরকার: পূর্বে রাজ্য পুলিশের তরফ থেকেই সাংসদকে এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক্তিয়ারভুক্ত।

বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ: উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। কেন্দ্র সময় চাইলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই সময়ের মধ্যে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তার দায়িত্ব কে নেবে?” নিরাপত্তার ঝুঁকি বোঝাতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “চলন্ত অবস্থায় এক টুকরো ছোট পাথর এসে গায়ে লাগলেও সেটা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, সে বিষয়ে কোনও ধারণা আছে?”

হাইকোর্টের বড় নির্দেশ: শুনানি শেষে অভিষেকের ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পেছনের কারণ এবং তাঁর ওপর হামলার অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *