নেপালে উদ্ধার অভিযান বন্ধের নির্দেশ, শর্মিষ্ঠার সন্ধানে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ শুভ্রাংশু

নেপালে উদ্ধার অভিযান বন্ধের নির্দেশ, শর্মিষ্ঠার সন্ধানে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ শুভ্রাংশু

কলকাতা: নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ দিন কেটে গেলেও এখনও হদিস মেলেনি মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা রায় ভৌমিকের। সম্প্রতি নেপাল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান বন্ধ করে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্গঠনে মনোযোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এর ফলে শর্মিষ্ঠার পরিবারে দুশ্চিন্তার মেঘ আরও ঘন হচ্ছে। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও আশা ছাড়ছেন না তাঁর স্বামী শুভ্রাংশু রায়। স্ত্রীকে ফিরে পেতে এবার তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদন জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মানস সরোবর যাত্রা ও বিপর্যয়: একটি পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। নেপাল হয়ে চিনের ভিসা পাওয়ার পর ২৬ আগস্ট ভোরে তাঁদের সীমান্ত পেরিয়ে চিনের দিকে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। এরপরই হড়পা বানের কবলে পড়ে নেপাল। শুভ্রাংশুর দাবি, বিপর্যয়ের আগে শর্মিষ্ঠা চিনের দিকে রওনা হয়ে গিয়েছিলেন। তাই বিপর্যয় ঘটার আগেই তিনি নিরাপদ স্থানে পৌঁছে থাকতে পারেন বলে পরিবার আশাবাদী। কিন্তু তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, আবার তাঁর মরদেহ উদ্ধারেরও কোনো তথ্য আসেনি।

প্রধানমন্ত্রীর দরবারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত: ঘটনার পর থেকেই শর্মিষ্ঠার পরিবার রাজ্য সরকারসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ রেখেছে। বিদেশমন্ত্রকের মাধ্যমে নেপাল সরকারের সঙ্গেও বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে বলে পরিবারকে জানানো হয়। তবে দীর্ঘদিনেও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য হাতে না আসায় এবার চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইতে চলেছেন শুভ্রাংশু। সরকারি স্তরে আবার নতুন করে উদ্যোগ নিলে শর্মিষ্ঠার সন্ধান মিলতে পারে বলেই বিশ্বাস পরিবারের।

উদ্বেগে পরিবার ও বর্তমান পরিসংখ্যান: যাত্রায় বের হওয়ার সময় নিজের দুই সন্তানকে (এক ছেলে ও এক মেয়ে) স্বামীর কাছে রেখে গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। মায়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে পরিবার। নেপালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১,৪৫৫ এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫,২৮৫ জন, যার মধ্যে ১৮৯ জন ভারতীয়। সরকারিভাবে উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও নিখোঁজ তালিকায় নাম থাকায় শেষ আশাটুকু আঁকড়েই প্রহর গুনছে শর্মিষ্ঠার পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *