২২ দিনের জন্য থমকে যাচ্ছে পদ্মার ‘রুপোলি সফর’: ইলিশ ধরা ও কেনাবেচায় পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, হু হু করে বাড়ছে দাম

২২ দিনের জন্য থমকে যাচ্ছে পদ্মার ‘রুপোলি সফর’: ইলিশ ধরা ও কেনাবেচায় পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, হু হু করে বাড়ছে দাম

মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়ার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগামীকাল ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন বাংলাদেশে ইলিশ ধরা, কেনাবেচা, পরিবহন, মজুত ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকছে। সম্প্রতি ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই নিষেধাজ্ঞার ঠিক মুখেই বাজারে ইলিশের তীব্র হাহাকার এবং পাইকারি দামে রেকর্ড উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।

দূষণ ও নাব্যতাসংকটে কমছে উৎপাদন মৎস্যবিজ্ঞানীদের মতে, নদীগুলোতে দূষণ বৃদ্ধি এবং পলি জমে গভীরতা ও নাব্যতা কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ইলিশ মূলত গভীর জলের মাছ হওয়ায় নদীর অগভীর অংশে এদের আনাগোনা কমে গিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর মেয়াদে সাগরে যেখানে ৩৩,৯৩৪ মেট্রিক টন ইলিশ ধরা পড়েছিল, চলতি বছর তা এক লাফে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৪,০৭৯ মেট্রিক টনে। শুধু এ বছরই নয়, গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভারে হ্রাস পাচ্ছে।

বাজারে আগুন, কেজিতে বাড়ল ৩০০ টাকা সরবরাহের তীব্র ঘাটতির কারণে শেষ মুহূর্তে এসে বাজারে ইলিশের দাম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠেছে। বরিশালের পাইকারি বাজারেই গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে গিয়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এই রূপোলি শস্য।

সংকটে মৎস্যজীবীরা, মিলবে সরকারি সহায়তা নদীতে মাছ না মেলায় ধারদেনা শোধের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না উপকূলীয় জেলেরা। বরিশাল বিভাগীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত জানান, চরম অনিশ্চয়তায় থাকা জেলে পরিবারগুলোর জন্য নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন পরিবারপ্রতি অন্তত ১০০ কেজি করে চাল বরাদ্দের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

অবশ্য জেলেদের এই সংকট দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক সভায় সরকারি প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবী পরিবারগুলো যাতে খাদ্যসংকটে না পড়ে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ খাদ্য সহায়তা চাল বিতরণ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *