মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া: পুজোর অনুদানে ‘না’ ৩ হাজার কমিটির, রাজ্যের সাশ্রয় ৩০ কোটি!

মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ আবেদনে সাড়া দিয়ে দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের প্রায় ৩ হাজার পুজো কমিটি। এর ফলে চলতি বছরে রাজ্য সরকারের প্রায় ৩০ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে চলেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। নামীদামি এবং বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির এই সিদ্ধান্তের ফলে অনুদান বন্টনে এক নতুন চিত্র উঠে এসেছে।
সম্প্রতি পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আবেদন জানিয়েছিলেন, যেসব পুজো কমিটি নিজেদের খরচে উৎসব আয়োজন করতে সক্ষম, তারা যেন সরকারি সাহায্য না নেয়। বড় পুজো সাহায্য ছেড়ে দিলে সেই অর্থ দিয়ে তুলনামূলক ছোট পুজো কমিটিগুলিকে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে বলে মত প্রকাশ করেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতার একাধিক নামী পুজো কমিটি অনুদান প্রত্যাখ্যান করার কথা প্রকাশ করে।
এই তালিকায় রয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী, ত্রিধারা সম্মিলনী, নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ, সুরুচি সঙ্ঘ, টালা প্রত্যয়, হাতিবাগান সর্বজনীন, আহিরিটোলা সর্বজনীন, নিউটাউন সর্বজনীন, মুদিয়ালি ক্লাব, সন্তোষপুর লেকপল্লি, চোরবাগান সর্বজনীন, শ্যাম স্কোয়ার সম্মিলনী, বাবুবাগান, ফুলবাগান, সিংহী পার্ক এবং ঠাকুরপুকুর এসবি পার্কের মতো বড় বড় পুজো কমিটিগুলি।
অনুদানের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি পুজো কমিটি অন্যরকম উদ্যোগও নিয়েছে। রাজডাঙা নব উদয় সঙ্ঘ জানিয়েছে, অনুদানের ১ লক্ষ টাকা তাদের দেওয়া হলে তা তারা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করে দেবে। অন্যদিকে নিউ আলিপুরের সুরুচি সঙ্ঘ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পুজোর উদ্বোধনের দিন ওই অর্থ মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ‘রিটার্ন গিফট’ হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
তবে বড় পুজোগুলি সরে দাঁড়ালেও সার্বিকভাবে অনুদানের আবেদনের সংখ্যা কিন্তু খুব একটা কমেনি। প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশের এক্তিয়ারভুক্ত আনুমানিক ৬০ হাজার পুজো কমিটির মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ৫৭ হাজার কমিটি অনুদানের আবেদন করেছে। এর পাশাপাশি কলকাতা এলাকাতেও প্রায় ২,৭০০টি পুজো কমিটি সহায়তার তালিকায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রথমবার পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অর্থ সাহায্য দেওয়ার প্রথা শুরু হয়েছিল। সেই সময় কমিটিপিছু অনুদান ছিল ১০ হাজার টাকা, যা ধাপে ধাপে বেড়ে গত বছর ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছায়। চলতি বছরে সেই পরিমাণ ১ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ৩ হাজার পুজো কমিটি সাহায্য না নেওয়ায় সরকারি কোষাগারে প্রায় ৩০ কোটি টাকা থেকে যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।