বুকের রক্তে ‘খ্যাপা মা’র মহাধুমধাম, ৪০০ বছর পেরিয়েও অন্ডালের ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোয় রোমহর্ষক নিয়ম!

প্রায় চার শতাব্দী ধরে অন্ডালের দক্ষিণখণ্ড এলাকার ভট্টাচার্য পরিবারে কঠোর নিষ্ঠা ও নিয়ম মেনে উদযাপিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো। বর্ধমান রাজপরিবারের প্রাক্তন পুরোহিত গঙ্গাধর ভট্টাচার্য প্রতিষ্ঠিত এই পুজোয় দেবী পূজিতা হন ‘খ্যাপা মা’ রূপে। শাস্ত্রীয় কড়াকড়ির সামান্য ত্রুটিও পরিবারের জন্য অমঙ্গলসূচক বলে গণ্য করা হয়। কৃষ্ণানবমীতে দেবীর বোধন থেকে পরিবারের সদস্যরা কঠোর নিরামিষাশী জীবনযাপন করেন এবং বাইরের জল পর্যন্ত গ্রহণ করেন না। মহিলাদের হাতে সম্পূর্ণ নিজস্ব রান্নাঘরে তৈরি খিচুড়ি, পোলাও ও লুচিসহ বিভিন্ন পদে মায়ের অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। প্রতিমার ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্নতা—এখানে দেবীর বাঁ পাশে থাকেন লক্ষ্মী ও গণেশ।
এই পুজোর সবচেয়ে রোমহর্ষক ও চমকপ্রদ অধ্যায় সূচিত হয় অষ্টমীর সন্ধিক্ষণে। পরিবারের পৈতেধারী পুরুষরা নিজস্ব বুক চিরে রক্ত নিবেদন করে দেবীর পূজা পরিচালনা করেন। ঐতিহ্য বজায় রেখে নতুন প্রজন্মও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে আসছে এই প্রাচীন রক্তদানের প্রথা। পাশাপাশি সন্ধিপুজোয় আয়োজিত হয় বিশেষ ‘ঝড়ন্তি’ অনুষ্ঠান, যেখানে দেবীর চরণ থেকে ১০৮টি বেলপাতা, পদ্ম ও অক্ষত্রসংবলিত ফুল মাটিতে পড়ার অলৌকিক ক্ষণের জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সেই বিশেষ ফুল সংগ্রহ করে রাখলে সব মনস্কামনা পূরণ হয়। পরিশেষে শুকো পুকুরে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে আবেগ ও ঐতিহ্যে মোড়া এই প্রাচীন আরাধনার।