‘যুবসমাজকে জেন জি বা আলফায় ভাগ করার ষড়যন্ত্র কেন?’ রাহুলকে তোপ দেগে গর্জে উঠলেন নীতিন নবীন

দেশের তরুণ প্রজন্মকে কোনো নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভাগ না করে ভারতের মূল শক্তি হিসেবে দেখার জোরালো বার্তা দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতি নীতিন নবীন। ‘জেন জি’ (Gen Z) বিতর্ক থেকে শুরু করে বিরোধীদের রাজনীতি—একাধিক বিষয়ে সরব হয়ে তিনি দাবি করেন, যুবসমাজকে জেন জি, জেন আলফা, বিটা বা গামায় বিভাজিত করা আসলে দেশের তরুণ শক্তিকে খণ্ড-বিখণ্ড করার এক গভীর চক্রান্ত।
তরুণ শক্তি ও নতুন প্রজন্মের মতামত
নীতিন নবীনের মতে, যুব সমাজকে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণীতে বেঁধে রাখা উচিত নয়; তারা কেবলই দেশের অখণ্ড উন্নয়ন শক্তি। পরিবার, সমাজ এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির দায়িত্ব হলো এই নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বর ও চিন্তাভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, মোদীজি দেশের একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি প্রথমে সাধারণ সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বনাম ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’
দেশের উন্নয়ন রূপরেখা প্রসঙ্গে নীতিন নবীন বলেন, স্বাধীনতার আশি বছর পার হতে চললেও অতীতে কাঙ্ক্ষিত ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে ওঠেনি, কারণ তৎকালীন সরকারগুলির পরিকল্পনা কেবল পাঁচ বছরের ‘পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’-র ঘেরাটোপে আটকে ছিল। যে সরকার কেবল পাঁচ বছরের কথা ভাবে, তারা দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই পুরোনো ধারা বদলে ‘নীতি আয়োগ’ গঠন করেছেন এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে শক্তিশালী ভারত গড়ার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য স্থির করেছেন। আমেরিকা বা চীন যেমন বহু দশক আগে নিজেদের ভবিষ্যতের রূপরেখা সাজিয়েছিল, ভারতও এখন সেই পথেই সাহসিকতার সাথে এগিয়ে চলেছে।
রাহুল গান্ধীকে তোপ ও পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে বিজেপি সভাপতি বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই আন্দোলন অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এটি নৈরাজ্যবাদী মানসিকতার পরিচয় দেয়। রাহুল গান্ধীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে যদি সত্যি সত্যতা বা দম থাকে, তবে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
কাশী বিশ্বনাথ দর্শন ও জাতীয় আহ্বান
বারাণসী সফরকালে উত্তরপ্রদেশের রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরীকে সাথে নিয়ে ঐতিহাসিক কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে পুজো দেন নীতিন নবীন এবং কাশী বিশ্বনাথ করিডোরের অভূতপূর্ব রূপান্তরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সবশেষে, একটি সুদৃঢ় রাজনৈতিক কাঠামোর অধীনে দেশের সমস্ত তরুণ প্রজন্মকে একজোট হয়ে ২০৪৭ সালের উন্নত ভারত গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।