‘একসাথে শিকার আর শিকারি হওয়া চলে না!’ রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধোনা দিল্লির, তীব্র অস্বস্তিতে ইসলামাবাদ

‘একসাথে শিকার আর শিকারি হওয়া চলে না!’ রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধোনা দিল্লির, তীব্র অস্বস্তিতে ইসলামাবাদ

জাতিসংঘের মঞ্চে সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ এবং পাকিস্তানের দ্বিচারিতা নিয়ে জোরালো আক্রমণ শানাল ভারত। সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূল’-সংক্রান্ত আলোচনায় পাক প্রতিনিধির বক্তব্যের কড়া জবাব দেন জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে ভারতের প্রতিনিধি রঘু পুরী। ‘রাইট টু রিপ্লাই’ বা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে তিনি পরিষ্কার জানান, ২০০৮ সালের মুম্বইয়ের ২৬/১১ হামলা কিংবা পহেলগাঁওয়ের নৃশংসতা বিশ্ববাসী কখনো ভুলবে না। সন্ত্রাসবাদকে তার আসল পৃষ্ঠপোষক ও অর্থদাতাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না করলে এই হুমকি দূর করা আসাম্ভব।

সন্ত্রাসকে মদত দেওয়ার প্রসঙ্গে পাকিস্তানকে তুলোধোনা করে ভারত জানায়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের নিরিহ বলে জাহির করলেও পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে এক অনিয়ন্ত্রিত ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ বা দানব তৈরি করেছে, যা আজ তাদের নিজেদের হাতের বাইরে চলে গেছে এবং প্রতিবেশীদের ওপর ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে। জইশ-ই-মহম্মদ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে বলে পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘে যে দাবি করেছে, তা এক সাজানো নাটক। গণমাধ্যম যদি কুখ্যাত জঙ্গিপ্রধান মাসুদ আজহারের অবস্থান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তবে পাক সরকারের তার হদিশ না থাকার দাবি পুরোপুরি অসত্য। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চরম ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তানের এফএটিএফ-এর (FATF) গ্রে লিস্টে থাকার ইতিহাসও মনে করিয়ে দেওয়া হয়।

বক্তব্যে সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কন্যা তথা পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সাম্প্রতিক বিস্ফোরক মন্তব্যও টেনে আনে দিল্লি। স্বয়ং মরিয়ম স্বীকার করেছেন যে, বাইরের শত্রুর চেয়ে ঘরের ভেতরের সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের জন্য বড় হুমকি। এই সত্য তুলে ধরে ভারতীয় প্রতিনিধি স্পষ্ট বার্তা দেন, “আপনি একই সঙ্গে খরগোশের মতো দৌড়াতে পারেন না, আবার শিকারি কুকুরের সাথে শিকারও করতে পারেন না। বাস্তব এভাবে কাজ করে না।”

ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস এবং ৯/১১-এর মতো ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে রঘু পুরী জানান, রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় যখন সন্ত্রাস লালন করা হয়, তখন সব আন্তর্জাতিক চুক্তি কাগজে পরিণত হয়। পহেলগাঁওতে ধর্মীয় পরিচয় জেনে নিরীহ মানুষকে হত্যার কথা উল্লেখ করে ভারত জানায়—একদিকে ধর্মীয় সম্প্রীতির ফাঁকা বুলি আর অন্যদিকে সীমান্তপারে ধর্মান্ধ সন্ত্রাস জিইয়ে রাখা, পাকিস্তানের এই চরম দ্বিচারিতাকে বিশ্বমঞ্চে চূড়ান্তভাবে ধিক্কার জানায় দিল্লি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *