মুক্তিপণ দিয়েও মেলেনি হদিশ! ১৫ বছর আগের বেহালার জোড়া নিখোঁজ-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

মুক্তিপণ দিয়েও মেলেনি হদিশ! ১৫ বছর আগের বেহালার জোড়া নিখোঁজ-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

দীর্ঘ দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কোনো উত্তর। ২০১১ সালে কলকাতার বেহালা এলাকা থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান দুই ১৯ বছরের তরুণ—সুদীপ্ত রায়চৌধুরী এবং রাহুল মণ্ডল। মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ মিটিয়ে দেওয়ার পরও তাঁদের কোনো খোঁজ মেলেনি। অবশেষে ১৫ বছর পুরনো এই অমীমাংসিত জোড়া নিখোঁজ-কাণ্ডের জট ছাড়াতে মামলাটির তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CBI)-র হাতে তুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ প্রদান করেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি, প্রাপ্ত তথ্য এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিবিআই-কে। প্রয়োজনে পৃথক দুটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেও তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

ঘটনার নেপথ্যে: ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল বেহালা থেকে আচমকাই নিখোঁজ হন দুই প্রতিবেশী বন্ধু সুদীপ্ত ও রাহুল। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাহুল ফোন করে সুদীপ্তকে বাইরে ডেকেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে বাইক সংক্রান্ত বিষয়ে কথা হয়েছিল। এর পর থেকেই দুজনের সঙ্গে সব রকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার দু’দিনের মাথায় পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে ফোন আসে। পরিবারের সদস্যরা সেই অর্থ মিটিয়ে দিলেও দুই তরুণ আর ঘরে ফেরেননি।

পুলিশ ও সিআইডির ব্যর্থতা: প্রথমে স্থানীয় পুলিশ তদন্তে নামলেও কোনো সূত্র মিলাতে পারেনি। পরবর্তীকালে তদন্তের ভার দেওয়া হয় রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র হাতে। টানা ন’ বছর ধরে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার পরও সিআইডি তরুণদের কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। কীভাবে তাঁরা নিখোঁজ হলেন বা তাঁদের পরিণতি কী হয়েছিল—সেসব প্রশ্নের উত্তর অধরাই থেকে যায়। অবশেষে ২০২০ সালের জুন মাসে সিআইডি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

পরিবারের লড়াই ও আদালতের নির্দেশ: সিআইডি ফাইল বন্দি করলেও আশা ছাড়েননি নিখোঁজ দুই তরুণের পরিবার। রাজ্য পুলিশের তদন্তের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানি শেষে পরিবারের সেই আর্জিতেই সাড়া দিল আদালত। সিবিআই-এর হাতে তদন্তভার যাওয়ার পর এবার ১৫ বছরের পুরনো এই অন্ধকারচ্ছন্ন রহস্যের জট খোলে কি না, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *