বিক্ষোভের চেনা ঠিকানা দিল্লির ‘যন্তর মন্তর’ আদতে কী? জানুন এর রোমাঞ্চকর ইতিহাস!
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রস্থল নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর মূলত কোনো সমাধি বা ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এটি অসামান্য জ্যামিতিক নকশায় তৈরি শতাব্দীর প্রাচীন এক ঐতিহাসিক মানমন্দির। ১৭১৯ সালে মুঘল দরবারে সামরিক অভিযানের শুভ দিনক্ষণ নির্ধারণ নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম জ্যোতিষীদের বিতর্কের পর, গ্রহ-নক্ষত্রের নির্ভুল অবস্থান গণনার লক্ষ্যে আমেরের রাজপুত শাসক দ্বিতীয় সওয়াই জয় সিংহ সম্রাট মহম্মদ শাহের অনুমতি নিয়ে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। অষ্টাদশ শতকের প্রচলিত রাজপুত স্থাপত্যশৈলীতে ইট, লাল চুন ও মার্বেল পাথরের ব্যবহারে তৈরি এই বৈজ্ঞানিক আশ্চর্যের নির্মাণকাজ ১৭২৪ সালে সম্পন্ন হয়, যা তৎকালীন ব্যবহৃত ছোট যন্ত্রের বদলে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও কৃষিকাজের পরিমাপকে আরও নিখুঁত করে তুলেছিল।
সংস্কৃত ‘যন্ত্র’ ও ছন্দ মেলানো ‘মন্তর’ শব্দ থেকে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা এই নামটি পরবর্তীতে জয়পুর, উজ্জয়িনী, বারাণসী ও মথুরার অন্যান্য মানমন্দিরগুলোতেও প্রচলিত হয়। ভারতসহ আন্তর্জাতিক জ্ঞানচর্চায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটটি বর্তমানে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিসৌধের মর্যাদা ধারণ করে আছে। পাশাপাশি ১৯৯৩ সাল থেকে এটি নয়াদিল্লির এমন এক মুক্ত প্রাঙ্গণে পরিণত হয়, যেখানে ১৪৪ ধারা জারি না থাকায় কালক্রমে তা দেশের প্রধান প্রতিবাদস্থলে রূপ নেয়।