ভোটে কারচুপির দাবি ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক! এবার সরাসরি মুখ খুললেন ১২৪ জন প্রাক্তন আমলা ও কূটনীতিক, কিন্তু কেন?

দেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহেই ভারতের নির্বাচন কমিশনের জোরালো সমর্থনে এগিয়ে এলেন ১২৪ জন প্রাক্তন আমলা ও কূটনীতিক। ভারতের নাগরিকদের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে প্রাক্তন IAS ও IFS আধিকারিকেরা স্পষ্ট জানান, পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়া বারবার ভোটের ফলাফলে কারচুপির দাবি তুললে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁরা স্পষ্ট স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় নেই এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁরা নিজেরা বুথ দখল ও ব্যালট ছিনতাইয়ের মতো পুরোনো দিন থেকে বর্তমানের আধুনিক ও সুরক্ষিত ইভিএম ব্যবস্থা পরিচালনায় যুক্ত থেকেছেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ২০২৫ সালের বিহার নির্বাচনের ঐতিহাসিক উদাহরণ তুলে ধরে তাঁরা জানান, সেখানে একটি কেন্দ্রেও পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন পড়েনি এবং সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত বর্তমান ব্যবস্থায় প্রতিটি প্রার্থীর প্রতিনিধিরাই পুরো প্রক্রিয়ায় কড়া নজর রাখেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির প্রতিবাদ এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগের মাঝেই এই চিঠি এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্তারা বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে স্পষ্ট প্রশ্ন তুলেছেন, একই নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে অতীতে জয়ী হলেও পরাজিত হওয়ার পর ঠিক কীসের ভিত্তিতে সেই ব্যবস্থার ওপর সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে? তাঁদের যুক্তি, হাজার হাজার সরকারি কর্মী ও প্রতিটি দলের এজেন্টদের একযোগে যুক্ত না করে এমন বড়সড় কারচুপি করা আসাম্ভব এবং সেই সংক্রান্ত কোনো বৃহৎ ষড়যন্ত্রের প্রমাণ আজও কেউ দিতে পারেনি। প্রমাণ ছাড়া এমন রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলেই মনে করছেন এই প্রাক্তন আমলা ও কূটনীতিকেরা।