‘ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার!’ জেলেনস্কির ওপর কেন বেজায় চটলেন ট্রাম্প?

‘ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার!’ জেলেনস্কির ওপর কেন বেজায় চটলেন ট্রাম্প?

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির ওপর বেজায় চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রকাশ্যে ইউক্রেনীয় নেতাকে নিশানা করে ডন ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ‘এখন ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।’ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে জ়েলেনস্কি যথেষ্ট উদ্যোগী নন বলেই এমন অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের পাল্টা হামলা অবিলম্বে বন্ধ করারও বার্তা দিয়েছেন তিনি।

এক নজরে মূল বিষয়গুলি:

  • ট্রাম্পের মন্তব্য: ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
  • জেলেনস্কিকে নিশানা: রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ জেলেনস্কি কাজে লাগাননি বলে অভিযোগ।
  • তেল শোধনাগারে হামলা: রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের পাল্টা হামলা বন্ধের কড়া বার্তা।
  • জ্বালানি চুক্তি: পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পরে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে ডিজেল সরবরাহের চুক্তি হয়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের।
  • জেলেনস্কির আপত্তি: রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে সেই অর্থ যুদ্ধ চালাতে ব্যবহার করবে মস্কো, মত ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের।
  • জাপোরিঝিয়ায় হামলা: রুশ হামলায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে (যার মধ্যে ৩টি শিশু রয়েছে) এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।
  • শান্তি আলোচনা: যুদ্ধ বন্ধের শর্ত ও সামরিক অভিযান নিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মতপার্থক্য এখন প্রকাশ্যে।

শনিবার, ১০ অক্টোবর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছনোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিলেন জ়েলেনস্কি, কিন্তু তিনি তা হাতছাড়া করেছেন। ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ছে এবং মার্কিন মুলুকে জ্বালানির দাম বাড়ছে বলে আশঙ্কা ট্রাম্পের।

রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্প-পুতিন চুক্তি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার পর ডিজেল সরবরাহ সংক্রান্ত একটি চুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে এবং আগামী নভেম্বর মাসে আরও ৫ লক্ষ টন জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। আমেরিকায় জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ক্ষুব্ধ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট অন্যদিকে, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জ়েলেনস্কি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তেল বিক্রি করে অর্জিত অর্থ মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধেই ব্যবহার করবে। ফলে রাশিয়ার ওপর থেকে চাপ কমানো হলে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে।

ইউক্রেনে রুশ হামলায় প্রাণহানি যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরে ভয়াবহ রুশ হামলায় অন্তত ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে। এই হামলায় আরও অন্তত ১৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শান্তি আলোচনা নিয়ে মতপার্থক্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সমঝোতার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই সওয়াল করে আসছেন ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত, নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনের পাল্টা হামলাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যকার মতপার্থক্য এখন স্পষ্ট রূপ নিচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, জেলেনস্কি সমঝোতায় রাজি হলেই যুদ্ধের অবসানের পথ প্রশস্ত হতে পারে। অন্যদিকে কিয়েভের পাল্টা যুক্তি, রাশিয়ার ধারাবাহিক আক্রমণ অব্যাহত থাকলে ইউক্রেনের পক্ষে একতরফাভাবে প্রতিরোধ ও সামরিক অভিযান বন্ধ করা সম্ভব নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *